ওঙ্কার ডেস্ক: বিহারে সরকারি চিকিৎসকদের প্রাইভেট প্র্যাকটিস সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত ঘিরে স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় বড়সড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে। রাজ্য সরকারের এই পদক্ষেপ মূলত সরকারি হাসপাতালগুলিতে চিকিৎসা পরিষেবার মান উন্নত করা এবং রোগীদের জন্য চিকিৎসকদের সহজলভ্যতা বাড়ানোর উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।
সরকারি নির্দেশ অনুযায়ী, এখন থেকে রাজ্যের সমস্ত সরকারি চিকিৎসক, চিকিৎসা শিক্ষক এবং স্বাস্থ্য দপ্তরের সঙ্গে যুক্ত চিকিৎসা কর্মীরা আর কোনওভাবেই ব্যক্তিগত চেম্বার বা বেসরকারি হাসপাতালে প্র্যাকটিস করতে পারবেন না। এতদিন বহু চিকিৎসক সরকারি হাসপাতালে দায়িত্ব পালন করার পাশাপাশি প্রাইভেট প্র্যাকটিস করতেন। ফলে অভিযোগ উঠত, নির্দিষ্ট সময়ে হাসপাতালে তাঁদের অনুপস্থিতি রোগীদের ভোগান্তি বাড়াচ্ছে। এই সমস্যা দূর করতেই কঠোর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
প্রশাসনের মতে, সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসকদের পূর্ণ সময় উপস্থিতি নিশ্চিত করা গেলে সাধারণ মানুষ আরও দ্রুত ও উন্নত চিকিৎসা পরিষেবা পাবেন। বিশেষ করে গ্রামীণ ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে যেখানে চিকিৎসকের অভাব দীর্ঘদিনের সমস্যা, সেখানে এই পদক্ষেপ ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে। তবে চিকিৎসকদের আর্থিক ক্ষতির বিষয়টিও মাথায় রেখেছে সরকার। প্রাইভেট প্র্যাকটিস বন্ধের ফলে যাতে তাঁদের আয়ের উপর বড় প্রভাব না পড়ে, তার জন্য ‘নন-প্র্যাকটিসিং অ্যালাওয়েন্স’ বা বিশেষ ভাতা চালুর পরিকল্পনা করা হয়েছে। এই ভাতা এবং অন্যান্য সুবিধা কীভাবে কার্যকর করা হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত নির্দেশিকা শীঘ্রই প্রকাশ করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
এদিকে, এই সিদ্ধান্ত নিয়ে চিকিৎসকদের একাংশের মধ্যে অসন্তোষও দেখা দিয়েছে। তাঁদের দাবি, প্রাইভেট প্র্যাকটিস অনেকের জন্য গুরুত্বপূর্ণ আয়ের উৎস ছিল। হঠাৎ করে তা বন্ধ করে দেওয়া হলে বাস্তব সমস্যার সম্মুখীন হতে হতে পারে। পাশাপাশি, এই সিদ্ধান্ত চিকিৎসকদের উপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি করতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।
সরকার স্পষ্ট করে জানিয়েছে, এই নির্দেশ অমান্য করলে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ফলে এই নীতির বাস্তবায়নে প্রশাসন কঠোর অবস্থানেই রয়েছে। এখন দেখার, এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হওয়ার পর সত্যিই সরকারি হাসপাতালের পরিষেবায় কতটা উন্নতি আসে এবং চিকিৎসক-রোগী উভয় পক্ষের উপর এর প্রভাব কতটা পড়ে।