ওঙ্কার ডেস্ক: অফিসে সহকর্মী কোনও মহিলার দিকে অশোভনভাবে তাকানো নৈতিকভাবে নিন্দনীয় হলেও তা সব ক্ষেত্রে ‘ভয়্যারিজম’ হিসেবে গণ্য করা যাবে না। সম্প্রতি এমনই রায় দিল বম্বে হাই কোর্ট। আদালতের এই রায়ে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, আইনের নির্দিষ্ট ব্যাখ্যা অনুযায়ী কোনও অপরাধকে চিহ্নিত করতে হলে তার ঘটনাগুলি পরিষ্কারভাবে প্রমাণিত হওয়া জরুরি।
উল্লেখ্য ঘটনাটি এক দশক আগের একটি অফিস সংক্রান্ত মামলাকে ঘিরে। অভিযোগ ছিল, এক ব্যক্তি মিটিং চলাকালীন সহকর্মী এক মহিলার সঙ্গে সরাসরি চোখে চোখ না রেখে বারবার তাঁর শরীরের দিকে তাকাতেন এবং তাঁর আচরণে মহিলা অস্বস্তি বোধ করতেন। এই ঘটনার ভিত্তিতে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৫৪সি ধারায় ‘ভয়্যারিজম’-এর অভিযোগ আনা হয়। তবে মামলাটি খতিয়ে দেখে আদালত জানায়, ৩৫৪সি ধারায় ‘ভয়্যারিজম’ বলতে বোঝানো হয়েছে এমন পরিস্থিতি, যেখানে কোনও মহিলাকে তাঁর ব্যক্তিগত বা গোপন মুহূর্তে যেমন পোশাক পরিবর্তন, ব্যক্তিগত কাজকর্ম তাঁর অজান্তে দেখা, ছবি তোলা বা সেই ছবি ছড়িয়ে দেওয়া হয়। অর্থাৎ, এখানে ‘প্রাইভেট অ্যাক্ট’ বা ব্যক্তিগত পরিসরের লঙ্ঘনই এই অপরাধের মূল উপাদান।
আদালতের মতে, অফিসের মতো একটি সাধারণ কর্মক্ষেত্রে, যেখানে কোনও ব্যক্তিগত বা গোপন মুহূর্তের প্রসঙ্গ নেই, সেখানে শুধুমাত্র অশোভনভাবে তাকিয়ে থাকা ওই ধারার আওতায় পড়ে না। বিচারপতি পর্যবেক্ষণে বলেন, অভিযুক্তের আচরণ নিঃসন্দেহে অশালীন ও অনৈতিক, এবং তা কর্মক্ষেত্রে শৃঙ্খলাভঙ্গ বা যৌন হয়রানির পর্যায়ে পড়তে পারে। কিন্তু সেটিকে সরাসরি ‘ভয়্যারিজম’ হিসেবে চিহ্নিত করা আইনের সঠিক প্রয়োগ নয়।
এই রায়ে আদালত আরও সতর্ক করে দেয়, যদি এ ধরনের আচরণকেও ভয়্যারিজম হিসেবে ধরা হয়, তাহলে আইনের পরিসর অযথা বিস্তৃত হয়ে পড়বে এবং ভবিষ্যতে তার অপপ্রয়োগের সম্ভাবনাও তৈরি হবে। তাই আইনের নির্দিষ্ট সীমা বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
পরিশেষে আদালত এই মামলায় দায়ের হওয়া এফআইআর ও সংশ্লিষ্ট ফৌজদারি কার্যক্রম বাতিল করে দেয়। তবে একই সঙ্গে স্পষ্ট করে দেয়, এই ধরনের আচরণকে কোনওভাবেই সমর্থন করা যায় না এবং প্রয়োজনে কর্মক্ষেত্রের অভ্যন্তরীণ অভিযোগ ব্যবস্থার মাধ্যমে বা যৌন হয়রানি সংক্রান্ত আইনের আওতায় আলাদা ভাবে বিচার হতে পারে।