ওঙ্কার ডেস্ক: ‘কাঁচা বাদাম’ খ্যাত ভুবন বাদ্যকরের কথা মনে আছে? লাল মাটির বীরভূম থেকে উঠে আসা সেই ভাইরাল গান গেয়ে একদিনে বিখ্যাত হয়েছিলেন তিনি। অথচ এমন আরও কত ভুবন লুকিয়ে আছেন এই মাটিতে, প্রচারের আলো থেকে বহু দূরে! ঠিক তেমনই আরেক ‘লুকনো রত্ন’ বীরভূমের মারগ্রামের মোহাম্মদ আসগর আলী এলাকার মানুষ যাঁকে ভালোবেসে ডাকেন বাদাম সাইকেল মিস্ত্রি’! দিনের বেলায় তাঁর পরিচয় এক সাধারণ সাইকেল মিস্ত্রি রামপুরহাট দুই নম্বর ব্লকের হাতিবান্দা পাড়ায় বাড়ির সামনেই তাঁর সাইকেল মেরামতের দোকান। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত রেঞ্জ, হাতুড়ি, স্ক্রু ড্রাইভারেই ব্যস্ত থাকেন আসগর আলী। কিন্তু সূর্য ডোবার সঙ্গে সঙ্গেই পাল্টে যায় তাঁর পরিচয়, তখন তিনি হারমোনিয়ামের সুরে, কলম-খাতায় বাউল, ফোক আর নাটকের প্রাণ।
আসগর আলীর সঙ্গীত ও নাটকের প্রতি প্রেম শুরু হয়েছিল বাবার হাত ধরে। তখন তিনি পড়তেন তৃতীয় শ্রেণীতে। প্রথম যাত্রাপালায় অভিনয় এক বাচ্চা ছেলের চরিত্রে। তারপর থেকে আর থামেনি সেই মঞ্চের টান। সাইকেল সারানোর পেশার ফাঁকেই বাউল গান, নাটক, যাত্রাপালা সবই চালিয়ে যাচ্ছেন সমান তালে। নিজেই নাটক লেখক, নিজেই করেন অভিনয়। আসগর আলী শুধু অভিনয় করেন না নিজেই নাটক লেখেন নিজেই মঞ্চে পরিবেশনও করেন। ইতিমধ্যেই আটটি নাটক লিখেছেন তিনি, যা রামপুরহাট থেকে বোলপুর, সাহাপুর বিভিন্ন অঞ্চলে মঞ্চস্থ হয়েছে।
এলাকার মানুষের মুখে মুখে ফেরে, রোজ সন্ধ্যা নামলেই ব্লক অফিসের সামনের সেই ছোট্ট সাইকেল মেরামতির দোকান বদলে যায় গানের আখড়ায়। হারমোনিয়াম, ঢোলক, করতাল সব বাদ্যযন্ত্র বেজে ওঠে তাঁর হাতেই। এলাকার কিশোর থেকে বৃদ্ধ, সকলেই ভিড় জমান। কেউ কেউ বলেন, ৫০ থেকে ১০০ জন মানুষ রোজ জড়ো হন তাঁর গান শোনার জন্য!
একইসঙ্গে সাইকেল মিস্ত্রি, বাউল গায়ক, নাট্যকার — এই এক মানুষের এত মুখ দেখে বিস্মিত মারগ্রামের মানুষ। তাঁদের কথায়, “ভুবন বাদ্যকরের মতোই ওঁরও পরিচয় পাওয়া উচিত, সারা বাংলা যেন জানে আমাদের বাদাম সাইকেল মিস্ত্রির গল্প!” শিল্পী আর শিল্পের ঠিকানা কখনও চার দেয়ালের মধ্যে আটকে থাকে না হোক সে সাইকেল দোকানের এক কোণেই!
