নিজস্ব সংবাদদাতা : বীরভূমের রাজনৈতিক অঙ্গনে ফের দানা বাঁধল বিতর্ক। এবারও তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরেই অভিযোগের নিশানায় রাজ্য পুলিশের এক উচ্চপদস্থ কর্তা। কিছুদিন আগেই বোলপুর থানার আইসি-কে প্রকাশ্য হুমকি দিয়ে শিরোনামে এসেছিলেন অনুব্রত মণ্ডল। ফোনে সরাসরি অভিযোগ করেছিলেন, ওই আইসি নাকি বীরভূম জেলা পরিষদের সভাধিপতি কাজল শেখের নির্দেশে কাজ করছেন। আর এবার, কাজল শেখের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত তৃণমূল নেতা নুরুল ইসলাম একেবারে উল্টো অভিযোগে সরব হলেন সিউড়ি থানার আইসি-র বিরুদ্ধে। অভিযোগ, অনুব্রতর নিয়ন্ত্রণে কাজ করছেন সিউড়ি থানার ওই আইসি, এবং তাঁর সরাসরি মদতেই দুষ্কৃতীদের বাড়বাড়ন্ত বেড়েছে এলাকায়।
সম্প্রতি সিউড়ি-২ ব্লকের দমদমা গ্রামে এক বিস্ফোরণের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। বিস্ফোরণের স্থান অনুব্রত ঘনিষ্ঠ শেখ হীরার বাড়ির পেছনেই। স্থানীয় তৃণমূলের একাংশের দাবি এই বিস্ফোরণের পেছনে রয়েছে কাজল অনুগামীদের হাত। এই ঘটনার প্রতিক্রিয়াতেই প্রকাশ্যে তীব্র ভাষায় ক্ষোভ উগরে দেন তৃণমূলের সিউড়ি-২ ব্লকের সভাপতি নুরুল ইসলাম। তিনি সরাসরি সিউড়ি থানার আইসি-কে কাঠগড়ায় তুলে বলেন, “এই আইসি-র চোখের সামনেই এলাকায় বোমা ও আগ্নেয়াস্ত্র মজুত হচ্ছে। বারবার বলেও কোনও ব্যবস্থা নিচ্ছেন না তিনি। বরং বোলপুরের নির্দেশে কাজ করছেন।”
নুরুলের দাবি অনুযায়ী, বোলপুর অর্থাৎ অনুব্রত মণ্ডলের ঘাঁটি থেকে নির্দেশ আসে সিউড়ি থানার আইসি-র কাছে। তাঁর অভিযোগ, এক ব্যক্তি বকুল জায়গায় জায়গায় অস্ত্র এবং বিস্ফোরক জমা করছে, আর পুলিশ নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে। “ওঁকে ধরলেই ব্লক শান্ত হয়ে যাবে, কিন্তু সেই উদ্যোগ নিচ্ছেন না আইসি। বলেছি, ঠিকানা পর্যন্ত দিয়েছি, তবুও কোনও তল্লাশি চালানো হয়নি,” বলেন নুরুল।
তিনি আরও দাবি করেন, পুলিশের কিছু সদস্য এই অস্ত্র-মজুতে যুক্ত এবং দুষ্কৃতীদের থেকে টাকা নিয়ে সহযোগিতা করছেন। এই অভিযোগ নতুন নয়। কিছুদিন আগেই তৃণমূলের দাপুটে নেতা অনুব্রত মণ্ডল একটি অডিও ক্লিপে বোলপুর থানার আইসি-কে হুমকি দিতে শোনা গিয়েছিল, যেখানে তিনি সরাসরি বলেন যে ওই আইসি কাজল শেখের কথা শোনেন। সেই ঘটনায় যথেষ্ট রাজনৈতিক উত্তাপ তৈরি হয়েছিল রাজ্যে। পরে অনুব্রত ক্ষমাও চেয়ে নেন। এই ঘটনার প্রতিধ্বনি এবার নুরুল ইসলামের বক্তব্যে ফের উঠে এল। তবে সম্পূর্ণ উল্টোভাবে। এবার অভিযোগ, কাজল অনুগামী হয়েও একজন পুলিশ অফিসার আসলে অনুব্রতের হয়ে কাজ করছেন। এবিষয়ে তৃণমূল এর অনান্য শীর্ষ নেতা, অনুব্রত বা পুলিশের তরফ থেকে কোনো মন্তব্য আসেনি।
