ওঙ্কার ডেস্ক: ঝাড়খণ্ডের রামগড়ে ভয়াবহ বিস্ফোরণে প্রাণ গেল তিন ইঞ্জিনিয়ারের। গুরুতর আহত হয়েছেন আরও এক জন। শনিবার বরকাকানা থানার হেহল এলাকার একটি সিমেন্ট ও ইস্পাত কারখানায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। কী কারণে এই বিস্ফোরণ তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, কারখানার পাওয়ার প্ল্যান্টে কাজ চলাকালীন আচমকাই বিকট শব্দ হয়। মুহূর্তের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে গোটা চত্বরে। বিস্ফোরণের পর আহতদের দ্রুত উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, মৃত তিন ইঞ্জিনিয়ারের নাম বিনীত মাহাতো, সঞ্জীব কেশরী এবং অভিষেক পাণ্ডে। বিনীতের বাড়ি বোকারোয়। সঞ্জীব ধানবাদের বাসিন্দা। অভিষেকের বাড়ি গড়বার নগর উন্টাড়িতে। আহত ইঞ্জিনিয়র তরুণ রাভানি হজারিবাগের বাসিন্দা। তরুণের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গিয়েছে। তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাঁচিতে পাঠানো হয়েছে।
বিস্ফোরণের সঠিক কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। প্রাথমিক তদন্তে অতিরিক্ত তাপমাত্রার বিষয়টি সামনে এসেছে। তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ার পর পাওয়ার প্ল্যান্টের একাধিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা কাজ করা বন্ধ করে দেয় বলে অনুমান।
এর পর টারবাইনের গতি অস্বাভাবিক ভাবে বেড়ে যায়। তার পরেই বিস্ফোরণ ঘটে বলে প্রাথমিক ভাবে মনে করা হচ্ছে। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না। দুর্ঘটনার পর কারখানার নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। কর্মীদের একাংশ ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাঁদের দাবি, পাওয়ার প্ল্যান্টের কন্ট্রোল রুমে কয়েক দিন ধরেই তাপমাত্রা বেশি ছিল। সেখানে থাকা এসি-ও ঠিকমতো কাজ করছিল না বলে অভিযোগ। ফলে কাজ করতে সমস্যা হচ্ছিল। এই বিষয়ে কর্তৃপক্ষকে একাধিক বার জানানো হয়েছিল বলেও দাবি কর্মীদের। অভিযোগগুলি আগে কেন গুরুত্ব দিয়ে দেখা হয়নি, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু হয়েছে। তদন্ত শেষ হলেই বিস্ফোরণের প্রকৃত কারণ স্পষ্ট হবে।