অনেকের ঘরের ড্রইংরুমে দেখবেন গোটা বটগাছ সাজানো আছে টেবিলের ওপরে। একটি ছোট চ্যাপটা টবে। গাছ থেকে ঝুড়ি নেমেছে। গাছে রয়েছে কোটোর, যেমনটা থাকে একটি বুড়ো বটের। বনসাইয়ের উৎপত্তি মূলত চিনে। তবে আধুনিক বনসাই শিল্পের বিকাশ ও জনপ্রিয়তার মূলে রয়েছে জাপান। চিনে এই বনসাই তৈরির প্রক্রিয়াকে বলা হত পেনজিং।বনসাই এর শখ যেকোনও গাছ প্রেমীদেরই থাকে। কিন্তু বনসাই তৈরি কিন্তু অতটা সহজ নয়। উপযুক্ত পরিচর্যা, ছাঁটাই এবং প্রশিক্ষণের মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের গাছকে বনসাই হিসেবে তৈরি করা যায়। বাড়ির বারান্দা, ছাদ কিংবা ছোট বাগানে প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করার জন্য বনসাই একটি চমৎকার মাধ্যম।
বনসাই তৈরির প্রথম ধাপ হলো উপযুক্ত গাছ নির্বাচন করা। বট, অশ্বত্থ, পাকুড়, শিউলি, জেড, ফাইকাস, বোগেনভিলিয়া ইত্যাদি গাছ দিয়ে সহজেই বনসাই তৈরি করা যায়। নতুনদের জন্য এমন গাছ বেছে নেওয়া ভালো, যেগুলি দ্রুত বৃদ্ধি পায় এবং ছাঁটাই সহ্য করতে পারে।
গাছ নির্বাচন করার পর দরকার উপযুক্ত টব। বনসাইয়ের জন্য সাধারণত চওড়া ও অগভীর টব ব্যবহার করা হয়। টবের নিচে অবশ্যই জল বেরিয়ে যাওয়ার জন্য ছিদ্র থাকতে হবে। মাটি এমন হওয়া দরকার যাতে অতিরিক্ত জল জমে না থাকে এবং শিকড় পর্যাপ্ত বাতাস পায়। বাগানের সাধারণ মাটির সঙ্গে বালি, ইটের গুঁড়ো, কোকোপিট বা অন্যান্য ঝুরঝুরে উপাদান মিশিয়ে ব্যবহার করা যেতে পারে।
বনসাই তৈরির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলির একটি হলো শিকড় ছাঁটাই। নির্দিষ্ট সময় অন্তর গাছটিকে টব থেকে বের করে অতিরিক্ত ও জট পাকানো শিকড় সামান্য ছেঁটে দিতে হয়। তবে একবারে খুব বেশি শিকড় কেটে ফেলা উচিত নয়। শিকড় ছাঁটাইয়ের পাশাপাশি উপরের ডালপালা ও পাতাও নিয়মিত ছাঁটাই করতে হয়। এর ফলে গাছটি ছোট আকারে সুন্দর আকৃতি ধরে রাখে এবং নতুন ডাল বের হতে সাহায্য করে।
বনসাইকে পছন্দমতো আকৃতি দিতে ডালকে তার দিয়ে ধীরে ধীরে বাঁকানো যায়। একে ‘ওয়্যারিং’ বলা হয়। তবে তার খুব শক্ত করে বাঁধা উচিত নয়। গাছের ডাল মোটা হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তারের দাগ গাছের গায়ে বসে যেতে পারে। তাই নিয়মিত পরীক্ষা করে প্রয়োজনে তার খুলে দিতে হবে।
জল দেওয়ার ক্ষেত্রেও সতর্কতা প্রয়োজন। মাটির উপরের অংশ শুকিয়ে এলে জল দিতে হবে। অতিরিক্ত জল দিলে শিকড় পচে যেতে পারে। একই সঙ্গে গাছকে পর্যাপ্ত আলো ও বাতাস দিতে হবে। কোন গাছ কতটা রোদ পছন্দ করে তা প্রজাতিভেদে আলাদা, তাই সেই অনুযায়ী গাছের অবস্থান ঠিক করা দরকার।
বনসাই তৈরি করতে ধৈর্য সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন। একটি সুন্দর বনসাই এক-দু’মাসে তৈরি হয় না। গাছের প্রজাতি ও কাঙ্ক্ষিত আকৃতির ওপর নির্ভর করে কয়েক বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। নিয়মিত ছাঁটাই, সার প্রয়োগ, জল দেওয়া, শিকড়ের পরিচর্যা এবং রোগ-পোকার নজরদারি করতে হয়।