নিজস্ব সংবাদদাতা: চোরবাগানের মর্মান্তিক পদপিষ্টের ঘটনায় প্রাণ হারানো ১৯ জনের মধ্যে ছিলেন বিহারের মুজফফরপুরের বাসিন্দা অভিষেক শ্রীবাস্তব (৩৮) এবং তাঁর সাত বছরের ছেলে অংশ। শোকে ভেঙে পড়া সেই পরিবারের পাশে দাঁড়াতে এবার বিহারে পৌঁছে গেল পশ্চিমবঙ্গ সরকার।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশে শনিবার মুজফফরপুরে নিহতদের বাড়িতে যান পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তরের রাষ্ট্রমন্ত্রী উমেশ রাই। তিনি পরিবারের সদস্যদের হাতে দুটি চেক তুলে দেন — বাবা ও ছেলের জন্য ২৫ লক্ষ টাকা করে মোট ৫০ লক্ষ টাকা। এই সময় ভিডিও কলের মাধ্যমে সরাসরি পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী নিজে।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “চোরবাগানের ঘটনায় অনেককেই আমরা বাঁচাতে পেরেছি, আহতদের চিকিৎসা দিয়ে ফিরিয়ে এনেছি। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে আপনাদের পরিবারের দুজনকে আমরা বাঁচাতে পারিনি। এটা আমাদের হাতে ছিল না। এই কঠিন সময়ে রাজ্য সরকার আপনাদের পাশে আছে।” তিনি আরও জানান, রাজ্য সরকারের ৫০ লক্ষ টাকা ছাড়াও প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকেও পরিবারটি আরও ২ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সাহায্য পাবে।
এদিন পরিবারের তরফ থেকে অভিষেকের পরিবারের এক সদস্যের জন্য চাকরির আবেদন জানানো হয়। জবাবে মুখ্যমন্ত্রী ভিডিও কলেই স্পষ্ট করেন, পশ্চিমবঙ্গে সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে ডোমিসাইল সার্টিফিকেট বাধ্যতামূলক। বাংলার বাসিন্দা যাঁরা এই দুর্ঘটনায় মারা গিয়েছেন, তাঁদের পরিবারের ক্ষেত্রে সেই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। কিন্তু বিহারের বাসিন্দাদের ক্ষেত্রে নিয়মগত জটিলতা রয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আপনাদের বিষয়টি নিয়ে আমি স্থানীয় বিধায়কদের সঙ্গে কথা বলছি, কীভাবে বিকল্প পথে সাহায্য করা যায় তা দেখছি। পশ্চিমবঙ্গ সরকার সবসময় আপনাদের পাশে থাকবে।” মন্ত্রী উমেশ রাইও ভিডিও কলে মুখ্যমন্ত্রীকে জানান, তিনি মুজফফরপুরের স্থানীয় বিধায়ক এবং বিজেপি নেতৃত্বের সঙ্গে কথা বলেছেন, পরিবারটিকে সবরকম সাহায্যের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
প্রসঙ্গত, চোরবাগান দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবারকে আর্থিক সাহায্যের পাশাপাশি একজনের সরকারি চাকরির ঘোষণা করেছে রাজ্য। যদিও বিহারের বাসিন্দা হওয়ায় অভিষেকের পরিবারের ক্ষেত্রে চাকরির প্রক্রিয়ায় আইনি বাধা তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে, এই দুর্ঘটনার তদন্তে প্রাক্তন বিচারপতির নেতৃত্বে একটি সিট গঠন করা হয়েছে। তিন মাসের মধ্যে তদন্ত রিপোর্ট বিধানসভায় পেশ করা হবে এবং দোষীদের কাউকেই ছাড়া হবে না বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।