একসময় জলা-জঙ্গলে ভরা, মশা মাছির আড়ত তিনটে গ্রাম কিভাবে হয়ে উঠল সিটি অফ প্যালেসেস সে এক রোমাঞ্চকর অধ্যায়। ডালহৌসি, জিপিও, ফেয়ারলি প্লেস দিয়ে হাঁটার সময় কি কখনও কানে আসে সেনাদের তলোয়ারের আওয়াজ বা কামানের গোলার আওয়াজ। একদা এখানেই ছিল ইংরেজদের প্রথম কেল্লা। ডালহৌসিতে লালদীঘির জলের দিকে চেয়ে চোখ বুজে কল্পনায় ভাবতে পারেন সেই সময়ের কথা যখন সাবর্ণ রায়চৌধুরীদের কাছারিবাড়ির দোল উৎসবে গোটা এলাকা রঙে রঙে রঙিন হয়ে উঠত। আজকের টেলিফোন ভবন যেখানে সেখানে হতো শ্রী শ্রী গোবিন্দজিউ-এর মঞ্চ। আর উল্টোদিকে অর্থাৎ আজকের রাইটার্সের দিকে হতো শ্রীরাধিকার মঞ্চ। আজকের শিয়ালদহ ফ্লাইওভারের ওপর দিয়ে যখন যান তখন কি শুনতে পান ইতিহাসের পাতা থেকে ভেসে আসা অগণিত মানুষের গুঞ্জন। তাঁরা খাল কেটেছিলেন এই শহরকে বর্গী হানাদারদের হাত থেকে বাঁচানোর জন্য। পার্ক স্ট্রীটের পুরনো গোরস্থানে আজও শুয়ে রয়েছেন প্রচুর মানুষ যাঁরা এই শহরে এসে আর ফিরতে পারেননি নিজের দেশে। এই শহরের বুকেই ঘুমিয়ে পড়েছেন চিরদিনের মত। ডেকার্স লেনে অনেক অফিসবাবুরা দুপুরবেলায় টিফিন সারেন। এই ডেকার্স সাহেবই গড়ে তুলেছিলেন এক ভল্যান্টিয়ার বাহিনী। যারা সিপাহি বিদ্রোহের সময় গোটা শহর পাহারা দিচ্ছিল। কারণ সাহেবদের ভয় ছিল এই বুঝি পাণ্ডেরা এসে হামলা চালাল শহরে। সে দিন গোটা হোয়াইট টাউন খালি করে সাহেব মেমসাহেবের দল পড়ি কি মরি করে দৌড়চ্ছে ফোর্ট উইলিয়ামের দিকে। যদি এই বিপদের দিনে কেল্লায় আশ্রয় পাওয়া যায়।
কলকাতা মানেই হাজারও গল্প । আবার কলকাতা মানেই হাজারও সত্য।
সেইসব গল্প এবং সত্যকে কাহিনির রূপ দিয়েছেন লেখক নীলাদ্রি চৌধুরী।
যাঁরা কলকাতার গল্প শুনেত চান, যাঁরা কলকাতাকে চিনতে চান তাঁদের জন্য এই বই।
গল্পে সত্যে কলকাতা
নীলাদ্রি চৌধুরী
শাংগ্রিলা
মূল্য- ২৭০/