ওঙ্কার ডেস্ক: দিল্লিতে শনিবার শুরু হচ্ছে ব্রিকস সম্মেলন। তার আগেই শুক্রবার একাধিক দ্বিপাক্ষিক বৈঠক সারলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে আলাদা ভাবে বৈঠক করেন তিনি। আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে এই দুই বৈঠকের আলাদা গুরুত্ব রয়েছে বলে মনে করছেন কূটনীতিকরা।
রাশিয়া এবং ইরান—দুই দেশই বর্তমানে আমেরিকার সঙ্গে তীব্র টানাপড়েনে রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ব্রিকসের মঞ্চে সম্মেলনের আগে দুই রাষ্ট্রনেতার সঙ্গে মোদীর বৈঠক তাৎপর্যপূর্ণ। রাশিয়া থেকে ভারতের তেল কেনা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আপত্তি জানিয়ে আসছে আমেরিকা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একাধিকবার প্রকাশ্যে অসন্তোষ জানিয়েছেন। ভারতকে অতিরিক্ত শুল্কের চাপও সামলাতে হয়েছে। তবে নয়াদিল্লির অবস্থান বরাবরই স্পষ্ট। দেশের স্বার্থে যেখানে জ্বালানি কেনা সুবিধাজনক হবে, সেখান থেকেই তেল কেনা হবে। পুতিনের সঙ্গে শুক্রবারের বৈঠকেও সেই অবস্থানেরই প্রতিফলন দেখা গেল। প্রায় ৫০ মিনিট ধরে দুই রাষ্ট্রনেতার মধ্যে আলোচনা হয়। অর্থনীতি থেকে প্রতিরক্ষা। মহাকাশ গবেষণা থেকে জ্বালানি। একাধিক বিষয় উঠে আসে বৈঠকে। পশ্চিম এশিয়ার সাম্প্রতিক অস্থিরতা নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছে বিদেশ মন্ত্রক।
পুতিনের সঙ্গে বৈঠকের পর ইরানের প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ানের সঙ্গে দেখা করেন মোদী। এই বৈঠকেও স্বাভাবিকভাবেই জায়গা করে নেয় পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি। আলোচনায় উঠে আসে সমুদ্রপথে পণ্য পরিবহণের বিষয়টি। বিশেষ করে জাহাজের নাবিকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের কথা জানায় ভারত। মোদী একইসঙ্গে ভারতের কূটনৈতিক অবস্থানও স্পষ্ট করেন। সংঘাতের পরিবর্তে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধানেই জোর দেন তিনি। পুতিনের সঙ্গেও একই বার্তা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।