বিশ্বজিৎ হালদার
‘ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে মেরুকরণ কি প্রধান ইস্যু হতে চলেছে ? তার ইঙ্গিত অস্পষ্ট নয়। একদিকে ৬ ডিসেম্বর মুর্শিদাবাদের বেলডাঙায় বাবরি মসজিদের শিলান্যাস। অন্যদিকে ৭ ডিসেম্বর ব্রিগেডে পাঁচ লক্ষ কণ্ঠে গীতাপাঠ’। প্রথমে আসি বাবরি মসজিদের শিলান্যাসে। ৬ ডিসেম্বর মুর্শিদাবাদের বেলডাঙায় বাবরি মসজিদের শিলান্যাস । বলা ভালো বাবরি মসজিদের শিলান্যাস করেছেন সদ্য সাসপেন্ড হওয়া তৃণমূল বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। তা নিয়ে কম হ্যাপা পোয়াতে হয়নি তাঁকে। নিজের দল তাঁকে সাসপেন্ড পর্যন্ত করেছে। যদিও হুমায়ুন কবীর বলেছেন, তিনি নিজেই নতুন দল তৈরি করবেন ২২ ডিসেম্বরই। ইতিমধ্যে তিনি জানিয়েছেন, তাঁর নতুন দলে মিমও যোগ দেব। এ বিষয়ে নাকি আসাদ-উদ্দিন ওয়েইসি-র সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছে। শুধু তাই নয়, তিনি সিপিএম, কংগ্রেস ও ISF-কেও আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। ঘোষণা করেছেন পরবর্তী কর্মসূচি হিসেবে ঘোষণা করেছেন মুর্শিদাবাদে এক লক্ষ কন্ঠে কোরানপাঠ। ফলে তাঁর নতূন দল ও কোরানপাঠের কর্মসূচির মধ্যে দিয়ে ছাব্বিশে বঙ্গ রাজনীতিতে সমীকরণ বদলানোর আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এখন প্রশ্ন, হুমায়ুন কবীরের পিছনে কার হাত ? মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলছেন হুমায়ুনের পিছনে বিজেপি। শুভেন্দু অধিকারী বলছেনে,হুমায়ুনের পিছনে তৃণমূল তথা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। হুমায়ুন কবীর যে ভাবে চালিয়ে ব্যাটিং করছেন তাতে কোন দলের লাভ – ক্ষতি তা সময় বলবে।
অন্যদিকে ৭ ডিসেম্বর ব্রিগেডে পাঁচ লক্ষ কন্ঠে গীতাপাঠ’। স্টার সাধু সন্তদের আসার কথা বললেও, আসর ভরিয়েছেন বঙ্গ বিজেপির নেতারা। ধরা পড়েছে বিরল ছবি। এক অনুষ্ঠানে উপস্থিত শুভেন্দু অধিকারী ও দিলীপ ঘোষ। যদিও পাঁচ লক্ষ কণ্ঠে গীতাপাঠ’ সনাতনী সংস্কৃতি সংসদের উদ্যোগে। অনেকে বলছেন,আসলে বিধান সভার আগে ফের একবার ধর্মীয় অস্ত্রে শান দিল গেরুয়া শিবির। হিন্দু হিন্দু ভাই ভাই স্লোগান চলছে। কিন্তু সত্যি কতটা কাছে আনা গেল। নাকি শুধু স্লোগানে ভাই ভাই। তা পরখ করতে চাইছে গেরুয়া শিবির।
যদিও বামেরা বলছে ছাব্বিশে ধর্মীয় মেরুকরণ চাইছে দুই ফুল শিবির। কারণ মোদি মমতা জানে, ২৬ হাজার চাকরি হারা শিক্ষকরা চাকরি চাইবে তা চান না মমতা । অন্যদিকে মোদি জানেন, প্রত্যেক ভারতীর অ্যাকাউন্টে ১৫ লক্ষ দিতে পারবে না। তাই ধর্মীয় মেরুকরণ চাইছে তৃণমূল ও বিজেপি। এখন দেখার মানুষ ধর্ম না কর্মের জন্য আওয়াজ তোলেন।
