ওঙ্কার ডেস্ক: পশ্চিম এশিয়ায় চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার প্রভাব পড়েছে ভারতের শিল্পক্ষেত্রেও । জ্বালানির সরবরাহে অনিশ্চয়তা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে দামের ওঠানামার জেরে একাধিক শিল্পে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। এই পরিস্থিতিতে শিল্পক্ষেত্রকে আংশিক স্বস্তি দিতে বাল্ক এলপিজি সরবরাহের মেয়াদ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার।
সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ শিল্প যেমন ফার্মাসিউটিক্যাল, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ, স্টিল, সিরামিক, গ্লাস, প্যাকেজিং এবং কৃষিভিত্তিক শিল্প এই সিদ্ধান্তের আওতায় পড়বে। এই শিল্পগুলির জন্য মার্চ ২০২৬-এর আগের গড় ব্যবহার অনুযায়ী প্রায় ৭০ শতাংশ পর্যন্ত এলপিজি সরবরাহ বজায় রাখা হবে। তবে এই সরবরাহ পুরোপুরি অবাধ নয়। নির্দিষ্ট সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে, যাতে সামগ্রিক জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় ভারসাম্য বজায় থাকে। সরকার স্পষ্ট করে জানিয়েছে, গৃহস্থালি ব্যবহারের জন্য এলপিজিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। ফলে শিল্পক্ষেত্রে সরবরাহ নিয়ন্ত্রিত রাখার এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির সরবরাহে অস্থিরতা এবং আমদানিনির্ভরতার কারণে ভারতের মতো দেশের উপর চাপ বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে একদিকে গৃহস্থালি চাহিদা মেটানো এবং অন্যদিকে শিল্প উৎপাদন সচল রাখা দুয়ের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করাই সরকারের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে অন্তত আপাতত শিল্পক্ষেত্রে কিছুটা স্বস্তি ফিরবে বলেই আশা করা হচ্ছে। উৎপাদন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণভাবে ব্যাহত না হয়ে চলতে পারবে এবং বাজারে পণ্যের সরবরাহও স্থিতিশীল রাখা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহলের একাংশ।