ওঙ্কার ডেস্কঃ বৃহস্পতিবার সই জাল কাণ্ডে ভবানীভবনে হাজিরা দিয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। পর পর টানা তিনবার হাজিরা এড়িয়ে শেষে হাই কোর্টের নির্দেশে হাজিরা দিয়েছেন। সূত্রের খবর, রেজোলিউশন কপি সংক্রান্ত যাবতীয় প্রশ্নের জবাবেই তৃণমূল ‘সেনাপতি’ নাকি বলেছেন, “জানি না।” এক পর্যায়ে সিআইডির প্রশ্নে মেজাজও হারান তিনি। জেরার পর রাত সাড়ে এগারোটা নাগাদ বেরিয়ে যান কালীঘাটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে। সেখানে বৈঠকের পর ছাতায় মুখ লুকিয়ে নিজের বাড়িতে যান অভিষেক।
সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, সিআইডি দফতরে প্রথমে ছয়-সাত জন অফিসার অভিষেককে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। তারপর একসঙ্গে ১০ জন আধিকারিক প্রশ্ন করেন। ছিলেন সিআইডির এডিজি সুপ্রতিম সরকারও।
জানা গিয়েছে, বৈঠকে না থাকার পরও বিধায়কদের সই কীভাবে চিঠিতে রইল? কে বা কারা সই করেছেন? কেন করেছেন? রেজোলিউশন কপি কোথায়? এ ছাড়াও একাধিক কঠিন প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয়েছে তাঁকে। জানা যাচ্ছে, অধিকাংশ প্রশ্নের জবাবেই নাকি অভিষেক বলেছেন, জানি না। হারিয়েছেন মেজাজও। স্বাভাবিকভাবেই এই জিজ্ঞাসাবাদে খুশি নিন সিআইডি আধিকারিকরা। সেই কারণেই রবিবার ফের তলব করা হয়েছে তাঁকে। রেজোলিউশন সংক্রান্ত বেশ কিছু নথি নিয়ে হাজিরা দিতে বলা হয়েছে তাঁকে।
সই জাল কাণ্ড-এর সূত্রপাত ভোটের ফল ঘোষণার পর। গত ৬ মে বিধায়কদের নিয়ে কালীঘাটে তৃণমূলনেত্রী বৈঠক করেন। তাতে বিরোধী দলনেতা হিসেবে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের নাম প্রস্তাব করা হয়। এরপর ১৩ ও ১৪ মে বিধানসভায় তৃণমূল বিধায়কদের শপথগ্রহণ হয়। শপথের পর নিয়ম মেনে সই করেন বিধায়করা। বিরোধী দল হিসেবে তৃণমূলের কাছ থেকে বিরোধী দলনেতার নাম নিয়ে প্রস্তাবপত্র চান বিধানসভার সচিব। তা জমা দিতে ১৯ মে ফের কালীঘাটে বৈঠক ডাকা হয় বিধায়কদের। ওইদিন কেউ ছিলেন, কেউ ছিলেন না। উপস্থিত সকলের সই নেওয়া হয় দলের তরফে। মিলিয়ে দেখা হয় ক’জন গরহাজির। পরে দলের প্রস্তাবিত বিরোধী দলনেতার নামে সমর্থন জানিয়ে ৭০ জনের সই করা একটি কাগজ জমা দেওয়া হয় বিধানসভায়। তৃণমূলের তরফে জানানো হয়, ওটাই বিরোধী দলনেতার প্রস্তাবনাপত্র। আর এখানেই গরমিল শুরু।