ওঙ্কার ডেস্ক: গৃহিণীদের অবদানকে দেশের সামাজিক ও অর্থনৈতিক কাঠামোর এক গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হিসেবে উল্লেখ করে তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করল সুপ্রিম কোর্ট। একটি মোটর দুর্ঘটনা সংক্রান্ত ক্ষতিপূরণ মামলার শুনানিতে দেশের শীর্ষ আদালত জানিয়ে দিয়েছে, গৃহিণীরা শুধুমাত্র পরিবারের দেখভালের দায়িত্বই পালন করেন না, তাঁদের নিরলস পরিশ্রম ও ত্যাগ সমাজ এবং জাতি গঠনের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই গৃহস্থালির কাজকে কোনওভাবেই অবমূল্যায়ন করা উচিত নয়।
আদালত পর্যবেক্ষণে বলেছে, দীর্ঘদিন ধরেই গৃহিণীদের কাজকে অর্থনৈতিক মূল্যহীন বলে মনে করা হয়েছে। অথচ একটি পরিবারের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা সচল রাখতে, সন্তানদের লালন-পালন করতে, প্রবীণ সদস্যদের দেখাশোনা করতে এবং পরিবারের সামগ্রিক কল্যাণ নিশ্চিত করতে গৃহিণীদের ভূমিকা অপরিসীম। তাঁদের এই শ্রমের কোনও সরাসরি আর্থিক মূল্য নির্ধারণ করা না হলেও বাস্তবে এর গুরুত্ব অসীম।
মামলার শুনানিতে বিচারপতিরা বলেন, কোনও গৃহিণীর মৃত্যু হলে তাঁর পরিবারের যে ক্ষতি হয়, তা শুধুমাত্র আর্থিক নির্ভরতার ভিত্তিতে বিচার করা যায় না। পরিবারের জন্য তিনি যে সেবা ও যত্ন প্রদান করেন, তারও একটি বাস্তব মূল্য রয়েছে। সেই কারণে ক্ষতিপূরণ নির্ধারণের ক্ষেত্রে গৃহিণীর অবদানকে যথাযথ মর্যাদা দেওয়া প্রয়োজন।
আদালত আরও উল্লেখ করেছে, সমাজে গৃহস্থালির কাজকে প্রায়শই অদৃশ্য শ্রম হিসেবে দেখা হয়। কিন্তু এই শ্রমই একটি পরিবারের ভিতকে মজবুত করে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে গড়ে তোলে। সন্তানদের শিক্ষাদীক্ষা, মূল্যবোধের বিকাশ এবং পারিবারিক স্থিতিশীলতার পিছনে গৃহিণীদের অবদান অনস্বীকার্য। সেই কারণেই তাঁদের ‘নেশন বিল্ডার’ বা জাতি নির্মাতা হিসেবে আখ্যা দিয়েছে শীর্ষ আদালত।
ক্ষতিপূরণ সংক্রান্ত এই মামলায় আদালত গৃহিণীদের গৃহস্থালি ও পরিচর্যামূলক কাজের আর্থিক মূল্যায়নের বিষয়টিকেও গুরুত্ব দিয়েছে। বিচারপতিরা মনে করেন, গৃহিণীদের শ্রমের যথাযথ মূল্য নির্ধারণ করা গেলে সমাজে তাঁদের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গিরও পরিবর্তন ঘটবে এবং বেতনহীন গৃহস্থালি কাজের গুরুত্ব সম্পর্কে আরও সচেতনতা তৈরি হবে।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পর্যবেক্ষণ ভবিষ্যতের বিভিন্ন ক্ষতিপূরণ মামলায় গুরুত্বপূর্ণ নজির হিসেবে কাজ করতে পারে। একইসঙ্গে গৃহিণীদের অদৃশ্য শ্রমকে স্বীকৃতি দেওয়ার ক্ষেত্রে এটি একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ বলেও মনে করা হচ্ছে। সমাজে নারীশক্তির অবদান এবং গৃহস্থালি কাজের মর্যাদা নিয়ে যে দীর্ঘদিনের বিতর্ক রয়েছে, সুপ্রিম কোর্টের এই মন্তব্য সেই আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে।