ওঙ্কার ডেস্ক: রাজ্যের কলেজ পরিচালনা সমিতিতে (গভর্নিং বডি) প্রশাসনিক বদল ঘিরে ফের জোর বিতর্ক শিক্ষা অঙ্গন। সম্প্রতি শিক্ষা দফতরের তরফে জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, রাজ্যের সরকারি ও সরকার পোষিত কলেজগুলির গভর্নিং বডির সভাপতি পদে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা (বিধায়ক ও সাংসদ) থাকবেন। বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর শিক্ষাঙ্গনকে ‘রাজনীতিমুক্ত’ করার লক্ষ্যে তৎকালীন গভর্নিং বডিগুলি ভেঙে দিয়ে প্রশাসকদের হাতে দায়িত্ব তুলে দিয়েছিল। তবে এই নতুন বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সরকার তার আগের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এল বলেই মনে করা হচ্ছে।
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, যে সমস্ত জনপ্রতিনিধিদের গভর্নিং বডির সভাপতি করা হয়েছে, তাঁরা সকলেই শাসকদল বিজেপির টিকিটে নির্বাচিত। এমনকি বেশ কিছু ক্ষেত্রে নিজ নির্বাচনী এলাকার বাইরের কলেজের দায়িত্বও পেয়েছেন একাধিক বিধায়ক ও সাংসদ। সরকারের এই সিদ্ধান্ত সামনে আসতেই শিক্ষাবিদ ও বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলির মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে।
রাজ্যের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগ নতুন নয় বামফ্রন্ট সরকারের আমলে শিক্ষাঙ্গনে দলীয় প্রভাব বোঝাতে ‘অনিলায়ন’ শব্দটি ব্যাপকভাবে প্রচলিত হয়েছিল। ২০১১ সালে ক্ষমতার পরিবর্তনের পর বিরোধীরা শিক্ষাক্ষেত্রে দলীয়করণের নাম দিয়েছিল ‘তৃণমূলায়ন’। ভর্তি প্রক্রিয়া থেকে শুরু করে প্রশাসনিক বিষয়ে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের অজস্র অভিযোগ উঠেছিল। বিজেপি সরকার ক্ষমতায় এসে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল যে, শিক্ষাক্ষেত্র থেকে রাজনীতির ছায়া সরানো হবে এবং গভর্নিং বডিতে কোনো রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব রাখা হবে না। তবে নতুন করে শাসকদলের সাংসদ ও বিধায়কদের কলেজ পরিচালনার দায়িত্বে ফেরানোয় সরকারের সেই দাবি নিয়েই এখন বড়সড় প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা সভাপতি পদে বহাল থাকলে কলেজ পরিচালনা কতটা নিরপেক্ষ থাকবে—তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করছেন শিক্ষা মহলের একাংশ।