বাবলু প্রামানিক, সোনারপুর: বিজেপি নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার ফল! সোনারপুরে তৃণমূল নেতার গাড়ি আটকে হেনস্থার অভিযোগ উঠল বিজেপিরই কিছু কর্মীদের বিরুদ্ধে। রবিবার রাতে বাড়ি ফেরার পথে কালিকাপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান তথা তৃণমূল নেতা মাধবচন্দ্র মণ্ডলের গাড়ি আটকানো হয় বলে অভিযোগ। ঘটনাকে কেন্দ্র করে তুমুল উত্তেজনা তৈরি হয় এলাকায়। ঘটনার একটি ভিডিও ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে।
তৃণমূল নেতা মাধবচন্দ্র মণ্ডলের অভিযোগ, বিজেপির সঙ্গে যোগাযোগ রাখার ‘অন্যায়ে’ তাঁকে মাঝরাস্তায় হেনস্থা করা হয়। গাড়ি থেকে তাঁকে নামিয়ে নানা প্রশ্ন করা হয়। এমনকি সেই সময় পিছন দিক থেকে তাঁর দিকে ডিম ও ইট ছোড়া হয় বলেও অভিযোগ তুলেছেন তিনি। এখানেই শেষ না। তাঁকে প্রাণে মেরে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছিল বলেও দাবি তুলেছেন তৃণমূলের ওই প্রবীণ নেতা।
তাঁর কথায়, গতকাল রাতে ঘটনাটি ঘটার সময় একটি পুলিশ পেট্রোলিং গাড়ি যেতে দেখে সাহায্যের জন্য চিৎকার করেছিলেন তিনি। কিন্তু তাঁর অভিযোগ, পুলিশকে সাহায্যের জন্য ডাকলেও পেট্রোলিং গাড়ি থেকে কোনও সহযোগিতা মেলেনি। জানা যায়, গতকাল রাতে হেনস্থা চলাকালীন তাঁকে একটি ছবি দেখান হয়েছিল। যেখানে বিজেপি বিধায়ক দেবাশিস ধর ও তাঁকে একফ্রেমে দেখা যায়। সেই ছবি দেখিয়ে তাঁকে আপত্তিকর প্রশ্ন করা হয় বলে অভিযোগ।
অন্যদিকে এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বিজেপি বিধায়ক দেবাশিস ধর। এমনকি মাধব মণ্ডলকে তিনি চেনেন না বলেও দাবি তুলেছেন। একইসঙ্গে তিনি বলেন, তিনি কোনও ধরনের মারধরের পক্ষপাতী নন। কেউ আইন নিজের হাতে তুলে নিলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি। ইতিমধ্যেই এই ঘটনায় সোনারপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন মাধবচন্দ্র মণ্ডল। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
প্রসঙ্গত, রাজনৈতিক পালাবদলের পর রাজ্যে তৃণমূল কর্মীদের হেনস্থা, ‘ডিম থেরাপি’-সহ একাধিক ঘটনা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এবার শুধুমাত্র রাজনৈতিক সৌজন্যতার একটি ছবিকে কেন্দ্র করে গাড়ি আটকে হেনস্থার অভিযোগ সামনে আসায় ফের প্রশ্ন উঠছে—বঙ্গ রাজনীতিতে কি রাজনৈতিক সৌজন্যতার সামান্য জায়গাটুকুও ক্রমশ হারিয়ে যাচ্ছে?