ওঙ্কার ডেস্ক: রাজ্যে বাল্যবিবাহ অনেকাংশে বেড়েছে। বেড়েছে নাবালিকার গর্ভধারণের হারও। এই পরিস্থিতি বন্ধ করতে এবার উদ্যোগী হল বিজেপি সরকার। কড়া পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী । চলতি ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসের স্বাস্থ্য দফতরের রিপোর্ট প্রকাশ করে তিনি জানান, নাবালিকা বিবাহ ও প্রসবের ক্ষেত্রে রাজ্য এখন দেশের সর্বোচ্চ স্তরে রয়েছে। বাল্য বিবাহ রুখতে নাবালিকার স্বামীদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করতে চলেছে প্রশাসন। তাদের বিরুদ্ধে পকসো আইনে মামলার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।।
সেই সঙ্গে বাড়ি বাড়ি অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তদের সমস্ত সরকারি সুবিধা বন্ধ করে দেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান। যারা বাল্যবিবাহ করেছেন, সেই স্বামীদের শোকজ করার পাশাপাশি যারা এই বিয়ে সম্পন্ন করতে সহায়তা করেছে সেই পুরোহিত-কাজিদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। মুখ্যমন্ত্রী জানান, ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুনের মধ্যে রাজ্যে প্রায় ৬৭ হাজার নাবালিকার গর্ভধারণ হয়েছে। এই তালিকায় শীর্ষে রয়েছে মুর্শিদাবাদ। এই জেলায় ১২,৮৪৭টি ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। তালিকায় পরবর্তী স্থানে রয়েছে দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা। এই জেলায় ৪,১৭৮টি ঘটনা রেকর্ড হয়েছে। এর পর ক্রম অনুসারে রয়েছে পূর্ব বর্ধমান, মালদহ, পশ্চিম মেদিনীপুর ও উত্তর দিনাজপুরের মতো জেলাগুলি রয়েছে।
শুভেন্দু অধিকারী আরও বলেন, ২০০৬ সালের বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ আইন অনুযায়ী ১৮ বছরের কম বয়সী মেয়ে এবং ২১ বছরের কম বয়সী ছেলে নাবালক হিসেবে গণ্য হয়। নাবালিকাকে বিয়ে করা পকসো আইনে মামলা যোগ্য। শুইধু তাই নয় জামিনঅযোগ্য অপরাধ সেটি। অপরাধীর অন্তত ১০ থেকে ২০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে এ ক্ষেত্রে। এই অপরাধ দমনে রাজ্য সরকার নাবালিকা প্রসূতিদের স্বামীকে শোকজ নোটিস পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে। এক মাসের মধ্যে স্ত্রীর প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার প্রমাণ না দিতে পারলে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে পকসো আইনে মামলা হবে।