নিজস্ব সংবাদদাতা : অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর হামলার ঘটনায় নিন্দার ঝড় উঠল বঙ্গ রাজনীতিতে। তবে, এই ঘটনাকে দুর্ভাগ্যজনক বলে বর্ণনা করার পাশাপাশি বিজেপি ও সিপিএম অভিষেকের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বেশ কয়েকটি প্রচার সমাবেশে অভিষেক ব্যানার্জীর দেওয়া ঔদ্ধত্যপূর্ণ ও উস্কানিমূলক জনসভার বক্তৃতার কথা স্মরণ করিয়ে দেন, যার জন্য তাঁর বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই একটি এফআইআরও দায়ের করা হয়েছে।
রাজ্য বিজেপি সভাপতি এবং দলের রাজ্যসভা সদস্য, শমীক ভট্টাচার্য, সমস্ত জনগণকে সংযম বজায় রাখতে এবং আইন নিজের হাতে না নিতে আবেদন জানিয়েছেন। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর হামলার সময় পুলিশ কেন সেখানে উপস্থিত ছিল না, এই প্রশ্নের জবাবে শমীক ভট্টাচার্য বলেন, “এর উত্তর রাজ্য সরকার দেবে”।
রাজ্য বিজেপি সভাপতি আরও বলেন, “কিন্তু আমি আপনাদের মনে করিয়ে দিতে চাই যে, যখন পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বিরোধী দলের নেতা ছিলেন, তখন উত্তরবঙ্গে তাঁকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছিল। আগের তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের আমলে তৃণমূল কংগ্রেস সমর্থকদের দ্বারা নির্মমভাবে নির্যাতিত হওয়া সত্ত্বেও নির্বাচনের পর বিজেপি কর্মীরা অনেক সংযম দেখাচ্ছেন। এমন অনেক উদাহরণ রয়েছে যে, আগের শাসক দলের কর্মীরা তাদের দল ক্ষমতায় থাকাকালীন রাজ্যে কতটা নির্মমভাবে সন্ত্রাস ও হিংসার আশ্রয় নিয়েছিল।”
রাজ্য সিপিমের সম্পাদক এবং দলের পলিটব্যুরো সদস্য মহম্মদ সেলিম বলেছেন, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর হামলা দুর্ভাগ্যজনক হলেও, ঠিক ততটাই আপত্তিকর ছিল যেভাবে তিনি নির্বাচনের আগে হুমকি ও উস্কানিমূলক মন্তব্য করেছিলেন। অবশ্য তখন তিনি শুধুমাত্র একজন সাংসদ হয়েও অভূতপূর্ব নিরাপত্তা পাচ্ছিলেন। সেলিম বলেন, “তাঁর তখনকার মন্তব্য যেমন কাম্য ছিল না, তেমনি আজ তাঁর ওপর এই হামলাও গ্রহণযোগ্য নয়। কিন্তু মনে রাখতে হবে, বিজেপি পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক অঙ্গনে তৃণমূল কংগ্রেসকে প্রাসঙ্গিক রাখার চেষ্টা সবসময় করবে। এখন প্রশ্ন হল, এই ঘটনাটি সেই পরিকল্পনারই অংশ ছিল কি না।”
রাজ্য তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক এবং দলের বিধায়ক কুনাল ঘোষ, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আগের নিরাপত্তা প্রত্যাহারের পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সিদ্ধান্তের নিন্দা করেছেন। তিনি বলেছেন, “আমি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর হামলার তীব্র নিন্দা জানাই। অতীতে আমরা ভারতের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত রাজীব গান্ধীর নিরাপত্তা প্রত্যাহারের ঘটনা দেখেছি। আজ সোনাপুরেও একই প্রবণতা দেখা গেছে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর যখন হামলা চলছিল তখন পুলিশ কী করছিল?”
এই প্রতিবেদনটি লেখার সময়, কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর (সিএপিএফ) সদস্যদের সঙ্গে পুলিশ বাহিনী ইতিমধ্যেই অভিষেক ব্যানার্জীকে সোনারপুর থেকে বের করে নিয়ে গিয়েছিল।
ঘটনাস্থল ছাড়ার আগে তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক বলেন, “আজ আমার মাথাটা থেঁতলে যেতে পারত। আমার সঙ্গে দুই-তিনজন মহিলা সহকর্মী এসেছিলেন। রাস্তায় তাঁদের লাথি মারা হচ্ছে এবং মারধর করা হচ্ছে। এটাই কি বাঙালি সংস্কৃতি ? আমার দিকে ইট-পাথর ছোড়া হয়েছে। আমার চশমার অবস্থাটা দেখুন। যদি এর সঙ্গে বিজেপি জড়িত না থাকে, তাহলে বিজেপি কেন ব্যবস্থা নিচ্ছে না? এই ঘটনা নিয়ে আমি কলকাতা হাইকোর্টেও যাব। প্রয়োজনে সুপ্রিম কোর্টেও যাব।”