নিজস্ব সংবাদদাতা : সোনারপুরে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর হামলার জন্য বিজেপিকে দায়ী করলেন দলের সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী শনিবার সন্ধ্যায় সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি সংক্ষিপ্ত পোস্ট করে দাবি করেন যে, পশ্চিমবঙ্গের শাসক এখন হত্যাকারীতে পরিণত হয়েছেন।
সোনারপুরে অভিষেক ব্যানার্জীর উপর আক্রমণের একটি ভিডিওসহ তৃণমূল কংগ্রেসের আরেকটি পোস্ট শেয়ার করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর পোস্টে মন্তব্য করেন, “শাসকরা হত্যাকারীতে পরিণত হয়েছে – বিজেপি, তোমাদের লজ্জা হওয়া উচিত।”
মমতার শেয়ার করা তৃণমূল কংগ্রেসের পোস্টে বলা হয়েছে, ওই অবস্থায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সঞ্জু কর্মকারের শোকাহত পরিবারকে ছেড়ে আসতে রাজি হননি। বিজেপি-সমর্থিত দুষ্কৃতকারীদের নৃশংস হামলার পরেও দলের জাতীয় সাধারণ সম্পাদক পিছু না হটে পরিবারটির পাশে দাঁড়িয়েছিলেন।
কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গেও অভিষেক ব্যানার্জীর ওপর হামলার নিন্দা জানিয়ে সামাজিক মাধ্যমে একটি কড়া বিবৃতি দিয়েছেন। রাজ্যে নির্বাচন-পরবর্তী হিংসায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারদের সঙ্গে দেখা করতে গেলে সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর এই মর্মান্তিক হামলার তিনি তীব্র নিন্দা করেছেন। খাড়গে আরও বলেন, একজন বিশিষ্ট বিরোধী নেতার জন্য ইচ্ছাকৃতভাবে পর্যাপ্ত পুলিশি সুরক্ষার অভাব বিজেপির প্রতিহিংসা ও নিপীড়নের রাজনীতির কথাই স্পষ্টভাবে তুলে ধরে।

তিনি বলেন, পশ্চিমবঙ্গ সরকার এবং কেন্দ্রীয় সরকারকে অবশ্যই সমস্ত বিরোধী নেতাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। এই ধরনের হামলা প্রতিরোধে অবিলম্বে পদক্ষেপ নিতে হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্য কখনোই প্রতিহিংসার পথে ন্যায্যতা দিতে পারে না।

উত্তর প্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী এবং বর্তমানে রাজ্য বিধানসভার বিরোধীদলীয় নেতা অখিলেশ যাদবও সোনারপুরের ঘটনার নিন্দা জানিয়ে একটি বিবৃতি দিয়েছেন। তিনি বলেন, বাংলায় তৃণমূল কংগ্রেসের একজন প্রধান নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর এই নৃশংস হামলা চালিয়ে বাংলার নৈরাজ্যপূর্ণ বিজেপি সরকার প্রমাণ করেছে যে তারা ঘৃণাভরা, নেতিবাচক ও হিংসার রাজনীতি ছাড়া আর কিছুই করতে পারে না। অখিলেশ আরও বলেন, এমন একটি সংবেদনশীল পরিবেশেও পুলিশি ব্যবস্থার অভাব একটি বড় ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিত করে। এই ঘটনাকে তিনি চরম নিন্দনীয় বলে অভিহিত করেছেন।