ওঙ্কার ডেস্ক: দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা রাজ্য সরকারি কর্মীদের মহার্ঘ ভাতা (ডিএ) মামলার শুনানি ফের পিছোল সুপ্রিম কোর্টে। নির্ধারিত দিন ১২ অগস্ট শীর্ষ আদালতে মামলাটি ওঠার কথা থাকলেও তা হয়নি। এখন নতুন করে আগামী ২৬ অগস্ট ডিএ মামলার শুনানি হবে বিচারপতি সঞ্জয় কারোল ও বিচারপতি প্রশান্তকুমার মিশ্রর ডিভিশন বেঞ্চে। ফলে পুজোর আগে সুপ্রিম কোর্ট থেকে কোনও সুরাহা মিলবে কি না, তা নিয়েই সরকারি কর্মীদের মধ্যে নতুন জল্পনা শুরু হয়েছে।
রাজ্যের তরফে আদালতে জানানো হয়েছে, ডিএ কর্মীদের ভাতা কোনো মৌলিক অধিকার নয়। কেন্দ্র ও রাজ্যের আর্থিক পরিকাঠামো ভিন্ন, তাই কেন্দ্রীয় হারে মহার্ঘ ভাতা দেওয়া সম্ভব নয়। আর্থিক সঙ্কটের যুক্তি তুলে ধরে রাজ্যের আইনজীবীরা স্পষ্ট করেছেন, ডিএ প্রদানে কেন্দ্রের সঙ্গে সরাসরি তুলনা টানা যায় না।
অন্যদিকে, নিজেদের দাবিতে অনড় রাজ্য সরকারি কর্মীরা জানাচ্ছেন, বেতন কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময় অন্তর ডিএ প্রদান সরকারের নীতিগত দায়িত্ব। নিজেদের খেয়ালখুশি মতো সরকার ডিএ দিতে পারে না। এমনকি প্রয়োজনে কিস্তিতে বকেয়া মেটানো হোক, তবুও নিয়মিতভাবে তা প্রদান করতে হবে বলে দাবি মামলাকারীদের।
উল্লেখ্য, ২০২২ সালের ২০ মে কলকাতা হাইকোর্ট রায় দিয়েছিল, তিন মাসের মধ্যে রাজ্য সরকারি কর্মীদের বকেয়া ডিএ মিটিয়ে দিতে হবে। যদিও সে নির্দেশ কার্যকর হয়নি। বরং হাইকোর্টের রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে রাজ্য রিভিউ পিটিশন দাখিল করেছিল, যা খারিজ হয়ে যায়। পরে একাধিক কর্মচারী সংগঠন রাজ্যের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার মামলা দায়ের করে। তারই প্রেক্ষিতে রাজ্য ফের সুপ্রিম কোর্টে যায়। ২০২২ সালের নভেম্বর থেকে শুরু হওয়া সেই মামলার শুনানি এখনও চলছে।
এর আগে একাধিকবার সুপ্রিম কোর্টে শুনানি পিছিয়েছে। সম্প্রতি শীর্ষ আদালত রাজ্যকে ২৫ শতাংশ ডিএ মেটানোর নির্দেশ দিয়েছিল। কিন্তু রাজ্য তা পরিশোধ না করে ফের সময় চেয়েছে। এতে ক্ষুব্ধ সরকারি কর্মীরা আশাবাদী যে, ২৬ অগস্টে নির্দিষ্ট রায় এলে এবার অন্তত পুজোর আগে কিছুটা হলেও সুখবর মিলতে পারে।
