ওঙ্কার ডেস্ক: নিজের ছোট্ট মেয়েকে বাড়িতে রেখে বাপের বাড়ি যাচ্ছেন বলে বের হন বর্ধমানের রায়নার তরুণী মিতালি ঘোষ। কিন্তু সেই সফরই পরিণত হল মর্মান্তিক ঘটনায়। পুরীর একটি হোটেল থেকে উদ্ধার হয় মিতালি এবং পাশের গ্রামের যুবক কুমারীশ ঘোষের ঝুলন্ত দেহ। ঘটনার পর শোকস্তব্ধ দুই পরিবার, তদন্তে নেমেছে পুলিশ।
পরবার সূত্রে জানা গিয়েছে, বছর দশেক আগে বাঁকুড়ার সোনামুখীর মিতালির বিয়ে হয়েছিল রায়নার হরিহরপুত্র গ্রামের বাসিন্দা ব্যবসায়ী প্রশান্ত ঘোষের সঙ্গে। তাঁদের একটি কন্যাসন্তানও রয়েছে। স্বাভাবিক জীবনযাপনের মাঝেই দুই বছর আগে কুমারীশ ঘোষের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন মিতালি। বিষয়টি জানতে পেরে স্বামী প্রশান্ত স্ত্রীর কাছে প্রশ্ন করলে তিনি দাবি করেন, কুমারীশ তাঁকে বারবার বিরক্ত করে। পরে প্রশান্ত সরাসরি কুমারীশের পরিবারকে বিষয়টি জানিয়ে দেন। আপাতত সমস্যার সমাধান হলেও কিছুদিন পর মিতালি ও কুমারীশের সম্পর্ক ফের শুরু হয়।
সম্প্রতি হোয়াটসঅ্যাপে দুইজনের একটি ছবি দেখে সন্দেহ করেন প্রশান্ত। মেয়েও মায়ের সঙ্গে কুমারীশকে ছবিতে চিনতে পারে। বিষয়টি ফাঁস হতেই মিতালি ছবি মোবাইল থেকে মুছে দেন। তারপরও গোপনে যোগাযোগ চলছিল দু’জনের। প্রায় এক সপ্তাহ আগে মিতালি বাপের বাড়ি যাচ্ছেন বলে বাড়ি থেকে বের হন। এরপর থেকেই তাঁর মোবাইল বন্ধ হয়ে যায়। স্বামী প্রশান্ত শ্বশুরবাড়িতে খোঁজ করলে সেখান থেকে জানানো হয়, মিতালি আসেননি।
অবশেষে বৃহস্পতিবার প্রশান্ত ঘোষের মোবাইলে ফোন আসে ওড়িশা পুলিশ পক্ষ থেকে। জানানো হয়, পুরীর এক হোটেলে মিতালি ঘোষ ও কুমারীশ ঘোষের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়েছে। প্রশান্তের অভিযোগ, বাপের বাড়ি যাওয়ার নাম করে মিতালি সোনার গয়না ও নগদ অর্থ নিয়ে প্রেমিকের সঙ্গে পালিয়েছিলেন। তদন্তে নেমেছে পুলিশ, মৃত্যুর আসল কারন খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
