ওঙ্কার ডেস্ক : মহারাষ্ট্রের পর এবার দিল্লিতে আইফোনের কিস্তি পরিশোধ করতে না পেরে এক যুবক যমুনা নদীতে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। তাঁর স্ত্রী ও দুই সন্তান রয়েছে। মহারাষ্ট্রের সম্ভাজিনগরে আইফোন নিয়ে মর্মান্তিক ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই দিল্লির এই ঘটনা চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। মহারাষ্ট্রের ঘটনায় ১৮ বছর বয়সী এক কিশোর আইফোন নিয়ে বচসার কারণে আত্মহত্যার উদ্দেশ্যে পাহাড়ের চূড়ায় উঠেছিল। তাকে তাকে বাঁচাতে গিয়ে সন্তান সমেত তার বাবার খাদে পড়ে মৃত্যু হয়। এই ঘটনা চোখের সামনে দেখে তার মা-ও ঝাঁপ দিয়ে মারা যান।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, ফোনটির কিস্তি পরিশোধ করতে না পারার কারণেই তিনি নিজের জীবন শেষ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। তবে তিনি অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান। তাঁকে ঝাঁপ দিতে দেখার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে কাদা ও জল থেকে তাঁকে উদ্ধার করে।
দীপক কুমার দক্ষিণ-পূর্ব দিল্লির ওখলার বাসিন্দা। পেশায় নৃত্যশিল্পী দীপক নাচ শিখিয়ে এবং মালি হিসেবে কাজ করে জীবিকা চালাতেন। তিনি বসবাস করে স্ত্রী ও দুই সন্তানের সঙ্গে। সংবাদ সংস্থা পিটিআই জানিয়েছে, দীপকের কাছ থেকে পুলিশ জানতে পেরেছে যে তিনি কিছুদিন আগে একটি আইফোন কিনেছিলেন। কিন্তু গত কয়েক মাসে তার আয় কমে যাওয়ায় তিনি ফোনটির কিস্তি পরিশোধ করতে পারছিলেন না। এর ফলে তিনি তীব্র মানসিক চাপের মুখে পড়েন এবং শেষ পর্যন্ত আত্মহত্যার পথ বেছে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
মহারাষ্ট্রের সম্ভাজিনগরে, আইফোনের কিস্তি পরিশোধের টাকা জোগাড় করতে ব্যর্থ হয়ে এক ১৮ বছর বয়সি কিশোরের আত্মহত্যার কথা ছড়িয়ে পড়েছে সারা দেশে। তাকে বাধা দিতে গিয়ে মৃত্যু হয় তার বাবারও। খাদের উপর থেকে স্বামী ও সন্তানকে নিচে পড়ে যেতে দেখে মা-ও ঝাঁপ দেন। আইফোনের কারণে তিনটি প্রাণ ঝরে যায়। শুক্রবারের এই ঘটনা সারা দেশে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। দিল্লির ঘটনাটি ঘটে ঠিক সেই রাতেই। রাত সাড়ে ৮টার দিকে দক্ষিণ দিল্লির কালিন্দি কুঞ্জ ঘাট থেকে দীপক যমুনা নদীতে ঝাঁপ দেন। টহলরত পুলিশ তাঁকে দেখতে পেয়ে উদ্ধারকারী দলকে সতর্ক করে এবং দ্রুত ওই যুবককে তীরে তুলে আনে।
প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাঁকে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। সেখানে তাঁর কাউন্সেলিংয়ের ব্যবস্থাও করা হয়। তাঁর স্ত্রী ও শ্যালককে খবর দেওয়া হলে তাঁরা এসে তাঁকে বাড়ি নিয়ে যান। মহারাষ্ট্রের এক যুবক সম্প্রতি একটি আইফোন কিনেছিলেন। তার বাবা তাকে জানিয়েছিলেন যে তিনি আইফোনের কিস্তি পরিশোধ করতে পারবেন না। এ নিয়ে পারিবারিক বিবাদের জেরে ওই যুবক সোজা তিসগাঁও এলাকার কোধ্যা পাহাড়ে ওঠে। ২০০ ফুট গভীর এক খাদের কিনারায় দাঁড়িয়ে সে আত্মহত্যার হুমকি দিতে থাকে। তার বাবা-মা প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে তাকে বোঝানোর চেষ্টা করেও ফল মেলেনি। এক সময়ছেলেকে টেনে ফিরিয়ে আনার জন্য বাবা এগিয়ে যান; ধস্তাধস্তির সময় দুজনেই খাদে পড়ে যান। এরপর মা-ও ঝাঁপ দেন।
পুলিশি তদন্তে জানা গেছে যে, ঘটনার আগের দিন ওই যুবকের মা তার ইউটিউব চ্যানেলে একটি ভিডিও পোস্ট করেছিলেন, যেখানে পারিবারিক সম্পর্কের টানাপড়েনের ইঙ্গিত ছিল। তদন্তকারীরা এখন খতিয়ে দেখছেন যে, আইফোন ছাড়াও এই তিন মৃত্যুর পেছনে অন্য কোনো অন্তর্নিহিত কারণ ছিল কি না।