ওঙ্কার ডেস্ক : ব্রিকস অন্তর্ভুক্ত দেশগুলির মধ্যে অনেকেরই রাজনৈতিক সম্পর্ক মসৃণ নয়, রয়েছে প্রযুক্তিগত বাধাও। তা স্বত্ত্বেও ব্রিকস দেশগুলোর মধ্যে আন্তঃসীমান্ত লেনদেনের সুবিধার্থে কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের ডিজিটাল মুদ্রাগুলোর মধ্যে সংযোগ স্থাপনের জন্য জোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছে ভারত। দিল্লির এই প্রস্তাব এবার ব্রিকস-এ সবচেয়ে বড় বিষয় হতে চলেছে।
এবার এই সম্মেলনের হোস্ট কান্ট্রি- ভারত। ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে জোটের নেতাদের বৈঠক হওয়ার কথা। রিজার্ভ ব্যাংক অফ ইন্ডিয়া আন্তঃসীমান্ত বাণিজ্য সহজতর করার লক্ষ্যে দেশগুলোর সরকারি ডিজিটাল মুদ্রাগুলোর মধ্যে সংযোগ স্থাপনের প্রস্তাব দিয়েছিল বলে আগেই জানা গিয়েছিল। বর্তমানে ব্রিকস জোটে রয়েছে- ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন, দক্ষিণ আফ্রিকা, মিশর, ইথিওপিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ইরান, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত। জানা গেছে, নেতাদের বৈঠকে এই সিবিডিসি সংযোগের বিষয়টি আলোচ্যসূচির অন্তর্ভুক্ত থাকবে। তবে বিশ্বজুড়ে ডিজিটাল মুদ্রার সীমিত ব্যবহারের কারণে এর বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া জটিল হতে
ভারতের এই প্রস্তাবটি রিও ডি জেনিরো ব্রিকস সম্মেলনে আন্তঃসীমান্ত লেনদেন আরও দক্ষ করে তোলার লক্ষ্যে সদস্য দেশগুলোর পেমেন্ট বা অর্থপ্রদান ব্যবস্থার মধ্যে পারস্পরিক সংযোগ বা ‘ইন্টার-অপারেবিলিটি’র ওপর জোর দেওয়া হয়েছিল। সেই ঘোষণার ওপর ভিত্তি করে এবার এই প্রস্তাব নিয়ে এগোতে চাইছে দিল্লি।, তবে সিবিডিসি সংযোগের যেকোনো উদ্যোগ উল্লেখযোগ্য চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে এমন একটা আশঙ্কাও সরিয়ে রাখা যাচ্ছে না। এর আগে যৌথ পেমেন্ট ব্যবস্থা তৈরির বিষয়ে ব্রিকসের অভ্যন্তরীণ আলোচনায় খুব একটা এগোয়নি। কারণ হিসেবে বিভিন্ন ধরনের দেশ নিয়ে গঠিত এই জোটের মধ্যে আর্থিক পরিকাঠামোর জটিলতাকেই সামনে এনে ফেলেছে।
ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো দেশগুলোর মধ্যে অস্থিরতাও একটা বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। যেহেতু সংযুক্ত আরব আমিরাত ইরানের সঙ্গে আর্থিক সম্পর্ক ছিন্ন করেছে বলে জানা যাচ্ছে। এদিকে চীনের সঙ্গে আর্থিক সংযোগ গভীর করার বিষয়েও ভারত কিছুটা অনাগ্রহী। জাতীয় নিরাপত্তার উদ্বেগের কারণে ভারত ‘আলিপে প্লাস’-এর সঙ্গে দেশের তাৎক্ষণিক পেমেন্ট ব্যবস্থার সংযোগ স্থাপনের প্রস্তাব আটকে দিয়েছিল, কারণ এর সঙ্গে চিন জড়িয়েছিল বলে মনে করা হচ্ছে। তাই সিবিডিসি সংযোগ ব্যবস্থা কার্যকর হওয়ার আগে বাণিজ্য ভারসাম্যহীনতা মোকাবিলার জন্য ‘কারেন্সি-সোয়াপ’ বা মুদ্রা বিনিময় ব্যবস্থারও প্রয়োজন হবে।
ব্রিকস দেশগুলো এর আগেও ডলার-ভিত্তিক লেনদেনের বিকল্প ব্যবস্থা নিয়ে পর্যালোচনা করেছে। যার মধ্যে জোটের জন্য একটি সাধারণ মুদ্রা চালুর বিষয়ে ব্রাজিলও প্রস্তাব দিয়েছিল। তবে সেই পরিকল্পনাটি বেশিদূর এগোয়নি। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প উচ্চ শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়ে জোটটিকে এ ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া থেকে বিরত থাকার বিষয়ে সতর্ক করেছিলেন। এদিকে ডলারকে প্রতিস্থাপনের কোনো আগ্রহ ভারত দেখাচ্ছে না। বরং ভারত মনে করছে, সরকারি ডিজিটাল মুদ্রাগুলোকে পরস্পরের সঙ্গে সংযুক্ত করা হোক, যার ফলে আন্তঃসীমান্ত লেনদেন প্রক্রিয়াকে আরও সহজ ও দ্রুততর হবে।