ওঙ্কার ডেস্ক : পড়াশোনার জন্য শহরের বাইরে থেকে আসা শিক্ষার্থীদের জন্য হোস্টেল বা থাকার ব্যবস্থা অত্যন্ত শোচনীয়, এমনটাই মন্তব্য দিল্লি হাইকোর্টের। মেসবাড়ি ধসের ঘটনায় সাতজনের মৃত্যু ও অনেকে আহত হওয়ার বিষয়টি হাইকোর্ট পর্যন্ত গড়িয়েছে। আদালত এই ঘটনায় উচ্চ-পর্যায়ের তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে। সেইসঙ্গে দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়, শহরের পৌর সংস্থা, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন, দিল্লি সরকার, কেন্দ্রীয় সরকার ও দিল্লি পুলিশকেও নোটিশ জারি করেছে।
সত্য নিকেতনের ঘটনাটিকে “দুর্ভাগ্যজনক” ও “উদ্বেগজনক” আখ্যা দিয়ে বিচারকরা বলেন, পৌর সংস্থাকে অবশ্যই জানাতে হবে যে কতজন শিক্ষার্থী এই ধরনের ‘পিজি’ হোস্টেলে বসবাস করছে। এ প্রসঙ্গে আদালত উল্লেখ করে, “পড়াশোনার জন্য বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী বাইরে থেকে দিল্লিতে আসে। তারাই দেশের ভবিষ্যৎ।” অথচ তাদের যে পরিবেশে বাধ্য হয়ে থাকতে হয়, তার অবস্থা “শোচনীয়”।
বিচারকরা বলেন, “সরকারের উচিত তাদের জন্য হোস্টেল ও অনুরূপ সুযোগ-সুবিধার ব্যবস্থা করার বিষয়টি বিবেচনা করা।” বিচারকরা আরও বলেন, “সরকার দায়িত্ব এড়াতে পারেন না… ৫০ জন তরুণ শিক্ষার্থী তাদের জীবন শুরু করার সন্ধিক্ষণে ছিল। তাদের মধ্যে অনেকেই সম্ভবত এখনও ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়েছে। এর চেয়ে মর্মান্তিক আর কিছু হতে পারে না।”
দিল্লির কলেজের খুব কাছে হওয়ায় ওই এলাকায় পড়ুয়াদের আনাগোনা লেগে থাকে। এর জন্য স্থানীয় বাসিন্দারা তাদের বাড়ির একাংশ বা পুরোটাই পড়ুয়াদের জন্য ‘পেয়িং গেস্ট’ হিসেবে ব্যবহার করে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে এইসব বাড়ি রক্ষণাবেক্ষণে নজর দেন না তাঁরা। সত্যনিকেতন ভবনটিতে এভাবেই ছিল রক্ষণাবেক্ষণের অভাব। যার ফলে রবিবার এতবড় এবং অত্যন্ত মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে গেল। সেই বাড়িটির ধ্বংসস্তূপ থেকে এখনও পর্যন্ত ১৩ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে।.৭ জনের মৃত্যুর খবর মিলেছে। কংক্রিটের স্ল্যাবের তলায় আরও অনেক পড়ুয়া আটকে রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
রবিবার যে বাড়িটির ধসে এতবড় ঘটনা, তার আশেপাশের বহুতলগুলোর বাসিন্দারা এখন নিজেদের বাড়ির কাঠামো নিয়ে আতঙ্কে ভুগছেন। সূত্রের খবর, ভেঙে পড়া বাড়িটির ধ্বংসস্তূপ সরানোর ফলে পাশের বাড়িগুলির কাঠামোর ওপর প্রভাব পড়তে পারে। যে বাড়িটি ধুলোয় মিশে গিয়েছে সেটির পাশের বাড়িটিও পাঁচ তলা। প্রাথমিক ভাবে মনে করা হচ্ছে, ওই বাড়িটিতে কোনও পিলার ব্যবহার করা হয়নি।