ওঙ্কার ডেস্ক : বিরোধী জোটের নির্বাচন কমিশনের অফিস ঘেরাও অভিযানে সরগরম দিল্লি। পরিকল্পনা ছিল সংসদ ভবন থেকে নির্বাচন কমিশনের দফতর পর্যন্ত নির্ধারিত মিছিলে সামিল হন বিরোধী জোটের সাংসদরা। যদিও এই মিছিলের অনুমতি দেয়নি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের অধীন দিল্লি পুলিশ। এদিন সকালে লোকসভা ও রাজ্যসভার অধিবেশন শুরু হতেই এসআইআর ইস্যুতে সরব হন বিরোধী সাংসদেরা। তুমুল হইচইয়ে দুপুর ২টো পর্যন্ত দুই কক্ষের কার্যসূচি মুলতুবি হয়ে যায়। এর পরেই রাহুল গান্ধী, প্রিয়ঙ্কা গান্ধী, ডেরেক ও ব্রায়েন, অখিলেশ যাদব-সহ প্রায় ৩০০ জন সাংসদ সংসদ ভবন থেকে রওনা দেন। কিছু দূর যেতেই ব্যারিকেড তুলে পথ আটকে দেয় দিল্লি পুলিশ। মিছিল আটকাতেই শুরু হয় রাস্তায় বসে বিক্ষোভ। ‘ভোট চুরি’ বন্ধের দাবিতে দেশজুড়ে বিভিন্ন ভাষায় স্লোগান শোনা যায়। মহুয়া মৈত্র, সাগরিকা ঘোষ-সহ মহিলা সাংসদেরা ব্যারিকেডের ওপর উঠে প্রতিবাদ জানান। তৃণমূল সাংসদদের হাতে থাকা ব্যানারে লেখা— ‘চুপি চুপি ভোটের কারচুপি’। মিছিলের নেতৃত্ব দিতে গিয়ে দিল্লি পুলিশের হাতে আটক হলেন বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী।

রাহুলের সঙ্গে আটক করা হয় কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়ঙ্কা গান্ধী, সমাজবাদী পার্টির সভাপতি অখিলেশ যাদব-সহ সমস্ত বিরোধী সাংসদদের। দিল্লি পুলিশ সমস্ত বিরোধী সাংসদদের দু’টি বাসে তুলে নিয়ে যায়। অন্যদিকে, পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তির মধ্যেই অজ্ঞান হয়ে পড়েন তৃণমূল সাংসদ মহুয়া। বিক্ষোভে অংশ নেওয়া দলগুলির মধ্যে ছিল দেশের নানা প্রান্তের আঞ্চলিক ও জাতীয় দল। যদিও বর্তমানে ‘ইন্ডিয়া’ জোটের বাইরে থাকলেও সোমবারের কর্মসূচিতে শামিল অরবিন্দ কেজরিওয়ালের আম আদমি পার্টিও।

এদিকে, পুলিশ আটক করে বাসে তোলার সময় ধস্তাধস্তিতে অসুস্থ হয়ে পড়েন মহুয়া মৈত্র, আরামবাগের তৃণমূল সাংসদ মিতালি বাগ। সমাজবাদী পার্টির এক সাংসদও অসুস্থ হয়ে পড়েন। সাংসদদের অসুস্থতার খবর পেয়ে ছূতে আসেন রাহুল। খোঁজখবর নেন। অসুস্থ সাংসদদের তুলে দেওয়া হয় অন্য গাড়িতে। তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ সাগরিকা ঘোষের অভিযোগ, পুলিশ মহিলা সাংসদদের উপর বলপ্রয়োগ করেছে, চুল ধরে টেনেছে।
তবে আশ্চর্যজনক ভাবে এদি বিরোধীদের সুরে সুর মিলিয়েছেন শশী তারুর। এমন কি রাহুল গান্ধীর তোলা প্রশ্নগুলির উত্তর কেন নির্বাচন কমিশন দেবে না, তা নিয়েও সোচ্চার হয়েছেন তিনি। নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবং মানুষের মনে দেখা দেওয়া ধন্দগুলি কাটাতে কমিশনের এগুলির উত্তর দেওয়া উচিত বলে জানিয়েছেন শশী।
বিরোধীদের দাবি, বিহারে এসআইআর প্রক্রিয়ায় ইতিমধ্যেই ভোটার তালিকা থেকে ৬৫ লক্ষ নাম মুছে ফেলা হয়েছে। চলতি বছরের শেষেই সেখানে বিধানসভা ভোট। বছর ঘুরতেই বিধানসভা নির্বাচন হবে পশ্চিমবঙ্গ, কেরল, অসম এবং তামিলনাড়ুতেও। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী পরিসংখ্যান তুলে ধরে দাবি করেছেন, এই পুরো প্রক্রিয়াই ‘ভোট চুরি’র অংশ। বিষয়টি ইতিমধ্যেই সুপ্রিম কোর্টে গড়িয়েছে। শীর্ষ আদালত আপাতত এসআইআর প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ না করলেও, কমিশনকে কিছু পরামর্শ দিয়েছে। মামলার শুনানি চলছে।
