ওঙ্কার ডেস্ক : বৃহস্পতিবার এক সাইবার প্রতারককে গ্রেপ্তার করলো দিল্লি পুলিশ। অভিযুক্তের নাম আনন্দ কুমার। বয়স ৩৫ বছর। বাড়ি পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনায়। অভিযোগ, ডেটিং এবং ম্যাট্রিমোনিয়াল প্ল্যাটফর্মে ভুয়া প্রোফাইলের মাধ্যমে মেয়েদের ভীষণভাবে হানি-ট্র্যাপিং, রোমান্স স্ক্যাম এবং ব্ল্যাকমেল করার র্যা কেট চালাচ্ছিলো সে। মিডিয়া এবং ম্যাট্রিমোনিয়াল অ্যাপ্লিকেশনে ডাক্তার, প্রযোজক, আইনজীবী, ব্যবসায়ী এবং অন্যান্য পেশাজীবী সেজে ভারতজুড়ে ৫০০-র বেশি মানুষ, বিশেষ করে মহিলাদের সঙ্গে প্রতারণা করে অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্ত ব্যক্তি আবেগতাড়ন, বিয়ের মিথ্যা প্রতিশ্রুতি এবং ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁসের হুমকি দিয়ে ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে ইতিমধ্যে প্রায় ২ কোটি টাকা হাতিয়েছে। পুলিশ তল্লাশি চালিয়ে আনন্দ কুমারের চারটি স্মার্টফোন, আটটি সিম কার্ড, তিনটি ডেবিট কার্ড এবং চারটি ব্রেসলেট ও পাঁচটি চেইনসহ সোনার গয়না উদ্ধার করেছে।
প্রায় ৭ লক্ষ টাকার প্রতারণার শিকার হওয়া এক মহিলার দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে এই অভিযান চলে। অভিযোগ অনুযায়ী, ভুক্তভোগী মহিলা একটি ডেটিং অ্যাপ্লিকেশনে এই অভিযুক্তের সঙ্গে পরিচিত হন। অভিযুক্ত নিজেকে “বৈভব অরোরা” নামে একজন সম্মানিত ও প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তি হিসেবে পরিচয় দেন। তার বিশ্বাস অর্জন করার পর, অভিযুক্ত একাধিক মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে প্রথমে ইনস্টাগ্রাম এবং পরে হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ শুরু করে।
অভিযুক্ত ধীরে ধীরে ওই ভুক্তভোগী মহিলার সঙ্গে একটি আবেগপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলে এবং বিয়ের প্রতিশ্রুতি দেয়। তার প্রতারণাকে আরও জোরালো করতে, সে “আনন্দ” নামে আরেকটি ভুয়া পরিচয় তৈরি করে এবং নিজেকে একজন ঘনিষ্ঠ বন্ধু হিসেবে পরিচয় দেয়। পরে সে আর্থিক সাহায্যের জন্য চিকিৎসাজনিত জরুরি অবস্থা এবং আর্থিক ক্ষতির মিথ্যা গল্প তৈরি করে। ভুক্তভোগী যখন তার টাকা ফেরত চায়, তখন সে সাড়া দেওয়া বন্ধ করে দেয় এবং পরবর্তী যোগাযোগ এড়ানোর চেষ্টা করে মিথ্যা দাবি করে যে “বৈভব” মারা গেছে।
মামলার গুরুত্ব বিবেচনা করে, ইন্সপেক্টর প্রবেশ কৌশিক এবং এসিপি সংঘমিত্রার তত্ত্বাবধানে সাব-ইন্সপেক্টর প্রিয়াঙ্কার নেতৃত্বে একটি বিশেষ দল গঠন করা হয়। দলটি আইপি লগ, মোবাইল নম্বর এবং আর্থিক লেনদেনসহ ডিজিটাল প্রমাণের ব্যাপক প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণ করে। নজরদারিতে প্রকাশ পায় যে অভিযুক্ত পশ্চিমবঙ্গ থেকে তার কার্যক্রম চালাচ্ছিল। অবশেষে রাজ্য পুলিশের সহায়তায় অভিযান চালায় দিল্লি পুলিশ।
তদন্তে প্রকাশ পায় যে আনন্দ কুমার একই সঙ্গে একাধিক ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করত। কখনো বৈভব অরোরা, কখনো বা ডঃ রোহিত বেহল, তরুণ, আনন্দ শর্মা, শিখার মতো নানান নাম নেয় সে। এভাবেই বিভিন্ন রাজ্যের একইসঙ্গে অসংখ্য মহিলার সঙ্গে যোগাযোগ রাখতো। পুলিশের চোখে ধুলো দিতে একাধিক সিম কার্ড ও ঘন ঘন ডিভাইস পরিবর্তনের মতো অত্যাধুনিক পদ্ধতি ব্যবহার করত।
তার কার্যপ্রণালীর মধ্যে ছিল হোয়াটসঅ্যাপ, ইনস্টাগ্রাম, ফেসবুক, স্ন্যাপচ্যাট এবং বিভিন্ন ডেটিং ও ম্যাট্রিমোনিয়াল অ্যাপের মতো প্ল্যাটফর্মে ভুয়া প্রোফাইল তৈরি করা। সে মহিলাদের সঙ্গে কথাবার্তা চালাতো। তাদের মধ্যে বিশ্বাস গড়ে তুলত। তারপর জরুরি অবস্থার কথা বলে বা মডেলিংয়ের কাজ বা নামকরা প্রতিষ্ঠানে ভর্তির মতো ভুয়া সুযোগের প্রলোভন দেখিয়ে তাদের সঙ্গে আর্থিক প্রতারণা করত। বেশ কয়েকটি ক্ষেত্রে, অভিযুক্ত ব্যক্তি ভুক্তভোগীদের শেয়ার করা ব্যক্তিগত ছবি ও ভিডিও সংগ্রহ করত এবং পরে সেগুলো জনসমক্ষে প্রকাশ করে দেওয়ার হুমকি দিয়ে ব্ল্যাকমেল ও অর্থ আদায়ের জন্য ব্যবহার করত। পুলিশ আরও জানিয়েছে, দিল্লি ও গাজিয়াবাদে নথিভুক্ত একই ধরনের সাইবার অপরাধের দুটি মামলায় এই অভিযুক্ত জড়িত। প্রতারণার মাধ্যমে হাতিয়ে নেওয়া অর্থের একটি বড় অংশ অনলাইন গেমিং-এ লাগাতো সে। মামলাটির বিষয়ে আরও তদন্ত চলছে।