অর্পিতা মুখার্জী, কলকাতা: মাথার উপর মৃত্যুদণ্ডের রায় ঝুলছে। দেশে পা রাখলেই গ্রেফতার হওয়ার আশঙ্কা। তারপরও নিজের সিদ্ধান্তে অনড় বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ডিসেম্বরের মধ্যেই দেশে ফিরবেন বলে ফের জানিয়ে দিলেন তিনি। বৃহস্পতিবার সংবাদসংস্থা এপি-কে দেওয়া এক ইমেল সাক্ষাৎকারে হাসিনা স্পষ্ট করেছেন, দেশে ফেরার জন্য ভারত বা আমেরিকার মতো কোনও বিদেশি শক্তির সাহায্য তিনি চান না।
কী বললেন হাসিনা?
তাঁকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, নিরাপদে দেশে ফেরার জন্য তিনি কি ভারত বা আমেরিকার দ্বারস্থ হচ্ছেন? বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের উপর চাপ দিতে কি তিনি চান দিল্লি বা ওয়াশিংটন হস্তক্ষেপ করুক? জবাবে আওয়ামী লীগ নেত্রী বলেন, সব দেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক ও বন্ধুত্বকে তিনি গুরুত্ব দেন। তাঁদের বিদেশনীতিও সবসময় তেমনই ছিল। কিন্তু নিজের দেশে ফেরার জন্য কোনও বিদেশি শক্তির সুরক্ষার প্রয়োজন নেই তাঁর। মৃত্যুদণ্ড প্রসঙ্গে হাসিনার বক্তব্য আরও স্পষ্ট। তিনি বলেন, মৃত্যুই যদি তাঁর ভবিতব্য হয়, তবে নিজের দেশের মাটিতে, নিজের মানুষের মাঝেই মরতে চান। ফেরার সিদ্ধান্তে কোনও পরিবর্তন হয়নি।
২০২৪ সালের অগস্টে গণবিক্ষোভের মুখে প্রধানমন্ত্রীর পদ ছেড়ে দেশ ছাড়েন হাসিনা। তারপর থেকে ভারতে রয়েছেন তিনি। বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তাঁকে মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে। তাঁকে ফেরত চেয়ে একাধিকবার দিল্লিকে চিঠি দিয়েছে ঢাকা। এরই মধ্যে হাসিনা জানিয়েছিলেন, ডিসেম্বরের মধ্যে দেশে ফিরতে চান।
হাসিনার এই ঘোষণায় পাল্টা কড়া প্রতিক্রিয়া দিয়েছে ঢাকা। বৃহস্পতিবার বাংলাদেশের বিদেশ প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবীর হাসিনাকে পাসপোর্ট দেওয়ার প্রশ্নকে ‘হাস্যকর’ বলে উড়িয়ে দেন। তাঁর বক্তব্য, হাসিনার দেশে ফেরা কোনও প্রত্যাবর্তন নয়। বরং ভারতের উচিত বন্দি বিনিময় চুক্তির আওতায় তাঁকে বাংলাদেশের হাতে তুলে দেওয়া। হাসিনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, হাসিনা পলাতক অপরাধী। হাজার হাজার মানুষকে হত্যা করে তিনি পালিয়ে গিয়েছেন। অপরাধীদের ধরতে কোনও পাসপোর্ট লাগে না, তাঁদের হস্তান্তর করতে হয়।
সব মিলিয়ে হাসিনার প্রত্যাবর্তনকে ঘিরে দুই দেশের কূটনৈতিক টানাপোড়েন আরও বাড়ল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।