ওঙ্কার ডেস্ক: স্ত্রী-সহ তাঁর পরিবারের সাত জনকে খুনের অভিযোগ উঠল এক ক্যাব চালকের বিরুদ্ধে। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, স্ত্রীর পারিবারিক বিষয়ে তাঁর মা ও ভাইদের হস্তক্ষেপ মেনে নিতে পারছিলেন না অভিযুক্ত। দীর্ঘদিনের দাম্পত্য অশান্তি থেকেই এই হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা। অভিযুক্তের নাম ইন্দুশেখর। প্রায় ২০ বছর আগে সুনীথার সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। বেঙ্গালুরুর রাজাজিনগর এলাকায় তাঁরা একসঙ্গে থাকতেন। পুলিশ জানিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরেই তাঁদের দাম্পত্য সম্পর্কে টানাপোড়েন চলছিল। পরিবারের সদস্যরা একাধিকবার দু’জনের মধ্যে মিটমাট করানোর চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু তাতেও বিবাদ থামেনি। বরং স্ত্রীর সঙ্গে তাঁর পরিবারের ঘনিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছিলেন ইন্দুশেখর। পুলিশের সন্দেহ, স্ত্রী ও তাঁর আত্মীয়দের নিজের জীবনে বাধা বলে মনে করেই তাঁদের সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন অভিযুক্ত।
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, প্রথমে খুন করা হয় সুনীথাকে। একটি শিলনোড়ার পাথর দিয়ে স্ত্রীর মাথায় আঘাত করেন ইন্দুশেখর। তাতেই তাঁর মৃত্যু হয়। এরপর দেহটি গাড়িতে করে নন্দী হিলসে নিয়ে গিয়ে ফেলে আসেন বলে অভিযোগ। প্রতিবেশীদের সন্দেহ এড়াতে অন্য গল্পও তৈরি করেছিলেন অভিযুক্ত। তাঁদের জানিয়েছিলেন, সুনীথা বন্ধুদের সঙ্গে বেড়াতে গিয়েছেন। তাঁর মোবাইল ফোনও বন্ধ রয়েছে বলে দাবি করেছিলেন তিনি। পুলিশের দাবি, পরের দিন দুই শ্যালক শিবকুমার ও শঙ্করকে বাড়িতে আমন্ত্রণ জানান ইন্দুশেখর। মদ্যপানের আসর বসানোর কথা বলে তাঁদের ডেকে পাঠানো হয়। সেখানেই দু’জনকে খুন করা হয়। তদন্তকারীদের অনুমান, এরপর তাঁদের স্ত্রী নলিনী ও দিব্যাকে হত্যা করেন অভিযুক্ত। বাদ যাননি শাশুড়ি রূপাবতীও। শঙ্করের সাত বছরের ছেলে পুনীতকেও খুনের অভিযোগ তাঁর বিরুদ্ধে। পুলিশের ধারণা, প্রত্যেককে আলাদা সময়ে বাড়িতে ডেকে এনে হত্যা করা হয়েছিল। পরে প্রমাণ লোপাটের উদ্দেশ্যে বিভিন্ন জায়গায় দেহগুলি ফেলে দেওয়া হয়।
খুনের পর বাড়ির রক্তের দাগ পরিষ্কার করার চেষ্টা করেন ইন্দুশেখর। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত শিলনোড়ার পাথর রাসায়নিক দিয়ে ধুয়ে ফেলেছিলেন বলেও তদন্তকারীদের দাবি। পুলিশ ওই পাথরটি বাজেয়াপ্ত করেছে। দেহ সরানোর কাজে ব্যবহৃত হয়েছে বলে সন্দেহ, এমন একটি গাড়িও আটক করা হয়েছে। তদন্তের সূত্র ধরে অভিযুক্তকে নন্দী হিলসে নিয়ে যায় পুলিশ। সেখানে দীর্ঘক্ষণ তল্লাশির পর সাত বছরের পুনীতের দেহ উদ্ধার করা হয়। বাকি দেহগুলির সন্ধানে তল্লাশি চলছে।