নিজস্ব সংবাদদাতা : দেউচায় কোনও জবরদস্তি ছাড়াই ৬০০ একর জমি অধিগ্রহণ করে ফেললো রাজ্য সরকার। সেই সঙ্গে উঠে এল সিঙ্গুর-নন্দীগ্রামের প্রসঙ্গ। কার্যত এই দুই জায়গায় জমি আন্দোলনের মধ্যে দিয়েই রাজ্যে তৃণমূলের ক্ষমতায়ন। বাম আমলে শিল্পায়নের নামে জোর করে জমি অধিগ্রহণের বিরুদ্ধে আন্দোলন করে রাজ্যের ক্ষমতার ভিত টলিয়ে দিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই আন্দোলনের জেরে কেন্দ্র জমি অধিগ্রহণ ও পুনর্বাসন নীতিতে বড়সড় পরিবর্তন ঘটিয়েছিল। রাজ্যেও তার প্রভাব পড়ে, জমি নিয়ে রাজনৈতিক সংকটের ফলে বড় শিল্পপতিরা বাংলা থেকে হাত গুটিয়ে নিয়েছিল। টাটাও সিঙ্গুর থেকে সরে গিয়ে গুজরাটে শিল্প গড়ে। শিল্প ক্ষেত্রে এই বিরূপ আবহে হাওয়া বদলের ইংগিত দিলেন মমতা। দেউচা-পাচামি রাজ্যের এই দুর্নাম ঘোঁচাবে বলে মনে করা হচ্ছে। দেউচা-পাচামি দেশের সবচেয়ে বড় কয়লা খনি প্রকল্প। ৩,৩০০ একরেরও বেশি এলাকা জুড়ে এই ব্লক। ইতিমধ্যেই প্রায় কোনও জবরদস্তি ছাড়াই ওই অঞ্চলে ৬০০ একর জমি অধিগ্রহণ করে শিল্প মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে রাজ্য। একই সঙ্গে ১৫০০ পরিবারকে সরকারি চাকরি দেওয়া হচ্ছে, পুনর্বাসনের ব্যবস্থাও করা হয়েছে পরিবারভিত্তিক পরিকল্পনায়।
নীতিগত ভাবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বরাবরই বলে এসেছেন তিনি শিল্পের বিরুদ্ধে নন, তবে তাঁর মতে শিল্প হবে মানুষকে বঞ্চিত করে নয়। মুখ্যমন্ত্রীর সেই নীতি মেনেই কাজ করেছে WBPDCL (পশ্চিমবঙ্গ পাওয়ার ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশন)। দেউচা-পাচামিতে জমি অধিগ্রণহণ করতে গিয়ে সিঙ্গুরের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগানো হয়েছে। আগে থেকে গ্রামসভা ডেকে স্থানীয় মানুষদের পাশে নিয়ে কাজ এগিয়েছে। মহিলাদের সঙ্গেও কথা বলেছে কর্পোরেশন। ফলে বিরোধ দানা বাঁধেনি। চাহিদা অনুযায়ী কেউ পেয়েছেন নগদ ক্ষতিপূরণ, কেউ পেয়েছেন নতুন ঘর বা দোকান। পরিবারপিছু চাকরি দেওয়ার কথাও রাখা হয়েছে। ৪০টিরও বেশি আদিবাসী গ্রামে তৈরি হয়েছে স্বনির্ভর গোষ্ঠী। এমনকি এই প্রকল্পে নজর দেওয়া হয়েছে বনজ সম্পদকেও।
ইতিমধ্যে ৫৮৯.৪৬ একর জমি অধিগ্রহণের কাজ শেষ হয়েছে। একর পিছু ৩৯ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া চাকরিরও ব্যবস্থা করা হয়েছে। ইতিমধ্যে সরকারি চাকরি পেয়েছেন জুনিয়র পুলিশ কনস্টেবল পদে ৮৭৭ জন এবং গ্রুপ ডি পদে ৬০৫ জন। এর মধ্যে ৫০০ জন তফসিলি জাতি ও ৭০০ জন তফসিলি উপজাতিভুক্ত। ভূমি হারানো পরিবারগুলির জন্য ৭০০ স্কোয়ার ফুটের মডেল বাড়ি গড়ার কাজ চলছে। যেখানে থাকবে পানীয় জল, বিদ্যুতের ব্যবস্থা। থাকছে রাস্তা, মন্দির-মসজিদ-কবরস্থান।
একই সঙ্গে ৩২৬ একরের মধ্যে ১২ একরে বেসল্ট পাথর খনন শুরু হয়েছে। এখান থেকে যা আয় হবে তার ৭১.৫% রাজস্ব পাবে রাজ্য। এখানে কয়লার স্তর অনেক গভীরে। তাই আন্ডারগ্রাউন্ড মাইনিংই একমাত্র উপায়। সেই পরিকল্পনা শুরু করা হয়েছে। এই ব্লকে প্রায় ১২০০ মিলিয়ন মেট্রিক টন G9 গ্রেড কয়লা রয়েছে, বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য যা আদর্শ। ইতিমধ্যেই ৬টি আন্তর্জাতিক সংস্থা টেন্ডার দাখিল করেছে।
