নিজস্ব প্রতিনিধি, হাবড়া ;
হাবড়ার রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে আবারও উষ্ণতা ছড়াল। বিজেপি প্রার্থী দেবদাস মন্ডলের সমর্থনে ‘পরিবর্তন সংকল্প যাত্রা’ নামে এক বিশাল শোভাযাত্রার আয়োজন করা হয়। হাবড়া দেশবন্ধু পার্ক থেকে শুরু হওয়া এই শোভাযাত্রা ক্রমশ জনসমাগমে পরিণত হয়ে শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা অতিক্রম করে শেষ হয় জয়গাছি এলাকায়। শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণ করেন বিজেপির স্থানীয় নেতৃত্ব, কর্মী-সমর্থক এবং সাধারণ মানুষ। ঢাক-ঢোল, পতাকা ও স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা, যা কার্যত নির্বাচনী আবহকে আরও তীব্র করে তোলে।
এই কর্মসূচির অন্যতম বড় চমক ছিল তনয় শাস্ত্রীর উপস্থিতি। বনগাঁয় অভিনেত্রী মিমি চক্রবর্তীর সঙ্গে আইনি বিতর্কে জড়িয়ে পড়ে যিনি ইতিমধ্যেই আলোচনায় ছিলেন, সেই তনয় শাস্ত্রী এদিন আনুষ্ঠানিকভাবে বিজেপিতে যোগদান করেন। দেবদাস মন্ডলের হাত ধরে তাঁর এই যোগদান রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জল্পনা তৈরি করেছে। পাশাপাশি হাবড়ার বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে একাধিক তৃণমূল কর্মীর বিজেপিতে যোগদানও এই শোভাযাত্রার গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে দেয়। দলবদলের এই প্রবণতা আসন্ন নির্বাচনে প্রভাব ফেলতে পারে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।
তবে এই ঘটনার পেছনে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রেক্ষাপট রয়েছে, যা ২৬.০১.২০২৬ তারিখের ঘটনাকে সামনে এনে আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে ওঠে। প্রজাতন্ত্র দিবসের দিন বনগাঁয় এক অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ পান অভিনেত্রী মিমি চক্রবর্তী, তবে তিনি সেখানে পৌঁছাতে দেরি করায় মঞ্চ থেকেই তাকে অনুষ্ঠান করতে না দিয়ে নামিয়ে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে এই তনয় শাস্ত্রীর বিরুদ্ধে। এরপর অভিনেত্রী এবং এই তনয় শাস্ত্রীর ঝামেলার জল গড়িয়েছিল বহুদুর । শেষমেশ অভিনেত্রীর করা পুলিশি অভিযোগের ভিত্তিতে গারোদের মুখও দেখতে হয় বনগাঁর তনয় শাস্ত্রীকে।
এইদিন বিজেপি প্রার্থী দেবদাস মন্ডল সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে জানান, কোন অন্যায় না করেও তনয়কে জেল খাটিয়ে ছেড়েছেন মিমি, কারন এককালীন তৃণমূল সাংসদ মিমি চক্রবর্তীর সাথে এখনও সরকারের ভালো সম্পর্ক তাই। তিনি এও বলেন তনয় শাস্ত্রীর বহুদিনের ইচ্ছে ছিল বিজেপিতে যোগদান করার আমরা তাই তাকে যোগদান করিয়েছি। উল্টোদিকে তনয় শাস্ত্রীকে এই যখন জিজ্ঞেস করা হয়, বিজেপিতে যোগদান করে মিমিকে কি বলতে চান? উত্তরে তিনি জানান, দেখতে পাবেন সামনেই কেসের ডেট আছে , মিমি আমাকে রাজনৈতিক ক্ষমতার জোরে জেল খাটিয়েছিল , আমি তেমন কিছু করতে চাইনা।
ফলেই এই ‘পরিবর্তন সংকল্প যাত্রা’কে শুধুমাত্র একটি শোভাযাত্রা নয়, বরং একটি শক্তি প্রদর্শনের মঞ্চ হিসেবে দেখছে রাজনৈতিক মহল।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ২৬ জানুয়ারির ঘটনাপ্রবাহ এবং তার পরবর্তী সময়ে সংগঠনগত পরিবর্তনই এই শোভাযাত্রার পটভূমি তৈরি করেছে। তনয় শাস্ত্রীর মতো আলোচিত ব্যক্তির যোগদান এবং একাধিক তৃণমূল কর্মীর দলবদল—সব মিলিয়ে হাবড়ার রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। এখন দেখার বিষয়, এই পরিবর্তনের হাওয়া কতটা প্রভাব ফেলে আসন্ন নির্বাচনে এবং তনয়-মিমির ঝামেলায় এর কী প্রভাব পড়ে।