ওঙ্কার ডেস্ক: তামিলনাড়ুর পূর্বশাসক দল ডিএমকে ঘোষণা করেছে যে, আগামী ৮ জুন অনুষ্ঠিত হতে চলা ইন্ডিয়া জোটের বৈঠকে তারা অংশ নেবে না। কংগ্রেসের বিরুদ্ধে বিশ্বাসঘাতকতার অভিযোগ তুলে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে দলটি। এই ঘোষণার পর বিরোধী শিবিরের ঐক্য ও ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কৌশল নিয়ে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে। অন্যদিকে বাংলায় নির্বাচনের পর তৃণমূলের অন্তদ্বন্দের জেরে তৃণমূলের সাংসদের অবস্থান নিয়ে জোড় জল্পনা শুরু হয়েছে। এতে বেশ চাপে পরতে পারে বিরোধী ইন্ডিয়া জোট।
তামিলনাড়ুর সদ্যসমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনে ১০৮টি আসনে জয় লাভ করেছে সুপারস্টার বিজয়ের টিভিকে। বিপুল ভোটে জয়ী হলেও সরকার গড়ার ম্যাজিক সংখ্যা ছুঁতে পারেনি টিভিকে। সেই মুহুর্তে ডিএমকে-র হাত ছেড়ে টিভিকে-কে নিজেদের সমর্থন জানায় কংগ্রেস। অবশেষে তামিলনাড়ুতে সরকার গঠন করে সি জোসেপ বিজয়ের টিভিকে। আর এতেই বেজায় চটে যায় ডিএমকে।
ডিএমকে নেতৃত্বের দাবি, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সহযোগী হওয়া সত্ত্বেও কংগ্রেস সাম্প্রতিক সময়ে এমন কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে যা দলের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। বিশেষ করে তামিলনাড়ুর রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে কংগ্রেসের ভূমিকা নিয়ে ডিএমকের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। দলের মতে, জোটসঙ্গী হিসেবে পারস্পরিক আস্থা ও সমন্বয়ের যে সম্পর্ক থাকা উচিত, কংগ্রেস তা বজায় রাখতে ব্যর্থ হয়েছে। সেই কারণেই কংগ্রেস উপস্থিত থাকবে এমন কোনও বৈঠকে যোগ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ডিএমকের শীর্ষ নেতৃত্ব স্পষ্ট জানিয়েছে, এই সিদ্ধান্ত শুধুমাত্র একটি বৈঠক বয়কটের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি কংগ্রেসের প্রতি দলের রাজনৈতিক ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ। তাদের অভিযোগ, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহে কংগ্রেস এমন আচরণ করেছে যা ডিএমকের স্বার্থ ও মর্যাদাকে আঘাত করেছে। ফলে দলের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যেও ব্যাপক ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে।
ইন্ডিয়া জোট গঠনের মূল উদ্দেশ্য ছিল বিজেপির বিরুদ্ধে বিরোধী শক্তিগুলিকে এক মঞ্চে আনা। কিন্তু বিভিন্ন রাজ্যে আঞ্চলিক দলগুলির নিজস্ব রাজনৈতিক স্বার্থ, নেতৃত্বের প্রশ্ন এবং আসন সমঝোতা নিয়ে মতপার্থক্য বারবার সামনে এসেছে। ডিএমকের এই সিদ্ধান্ত সেই মতবিরোধকেই আরও স্পষ্ট করে তুলেছে। এদিকে ডিএমকে জানিয়েছে, তারা বৈঠকে অংশ না নিলেও বিজেপি-বিরোধী রাজনৈতিক অবস্থান থেকে সরে আসছে না। গণতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা এবং ফেডারেল কাঠামো রক্ষার প্রশ্নে অন্যান্য বিরোধী দলগুলির সঙ্গে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা চালিয়ে যাবে বলেও দল জানিয়েছে। তবে কংগ্রেসের সঙ্গে বর্তমান সম্পর্কের অবনতির প্রেক্ষিতে ইন্ডিয়া জোটের অভ্যন্তরীণ সমন্বয় কতটা প্রভাবিত হবে, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।
আগামী ৮ জুনের বৈঠককে ঘিরে বিরোধী শিবিরের ভবিষ্যৎ রণকৌশল নির্ধারণের কথা থাকলেও, তার আগেই ডিএমকের বয়কটের ঘোষণা জোটের ঐক্য নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এই পরিস্থিতি দ্রুত মিটিয়ে না ফেলতে পারলে বিরোধী জোটের সামগ্রিক শক্তি ও বার্তার ওপর তার প্রভাব পড়তে পারে।