ওঙ্কার ডেস্ক: ইরানের উপর হামলার সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর দাবি, তেহরানের সঙ্গে বোঝাপড়া চূড়ান্ত হয়েছে। তাই আপাতত আর হামলা চালানো হবে না খামেনেই এর দেশে। মার্কিন প্রেসিডেন্টের আচমকা মতবদল নিয়ে শুরু হয়েছে জল্পনা। বিভিন্ন মার্কিন সংবাদমাধ্যম দাবি করেছে, ট্রাম্পের এই রাতারাতি মতবদলের নেপথ্যে রয়েছে পাকিস্তান, কাতার এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহি।
রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, পাকিস্তান থেকে ফোন করেছিলেন সে দেশের সেনাপ্রধান আসিম মুনির। কাতারের আমির তামিম বিন হামাদ আল থানি এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহির প্রেসিডেন্ট মহম্মদ বিন জায়েদ আল নাহয়ান মার্কিন প্রেসিডেন্টকে সরাসরি ফোন করেছিলেন। আর তার পর ঘনিষ্ঠ মহলে ট্রাম্প জানিয়েছেন, তেহরানের বিষয়ে এই তিন নেতা যে কথা বলেছেন তাতে বিশ্বাস করা যায়। তাঁদের কথাতেই হামলা থেকে বিরত থাকার সিদ্ধান্ত নেন ট্রাম্প। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনেইয়ের উপরেও এই তিন নেতার প্রভাব রয়েছে বলে আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করেন। তাই তাঁদের কথা শুনে নিজের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। সমাজমাধ্যমে ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে সমঝোতা ঘোষণা করা হতে পারে খুব শীঘ্রই। চলতি সপ্তাহের শেষে তা হতে পারে।
উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার নিজের মালিকানাধীন ‘ট্রুথ সোশ্যাল’এ ট্রাম্প লেখেন, ‘মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আজ রাতে ইরানের ওপর অত্যন্ত কঠোর আঘাত হানতে যাচ্ছে—ইরান, যার নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, রাডার, বিমান-বিধ্বংসী ব্যবস্থা এবং অন্যান্য সব ধরনের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা—এমনকি তাদের অধিকাংশ আক্রমণাত্মক সক্ষমতাও—ইতিমধ্যেই ধ্বংস হয়ে গেছে!’ তাঁর আরও সংযোজন, ‘অদূর ভবিষ্যতে কোনও এক সময় আমরা খার্গ দ্বীপ ও অন্যান্য তেল ঘাঁটির নিয়ন্ত্রণ নেব। ইরানের তেল ও গ্যাস বাজারের ওপর পূর্ণ কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করব—ঠিক যেমনটা আমরা ভেনেজুয়েলার ক্ষেত্রে করেছি, যা ভেনেজুয়েলা এবং যুক্তরাষ্ট্র—উভয়ের জন্যই চমৎকারভাবে কাজ করছে।’ মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই বার্তার পরে আন্তর্জাতিক মহলে শোরগোল পড়ে গিয়েছিল।