ওঙ্কার ডেস্ক: সম্প্রতি শিশু যৌনকান্ডে যুক্ত জেফ্রি এডওয়ার্ড এপস্টাইনের একটি ফাইল প্রকাশ করেছে মার্কিন যক্তরাষ্ট্রের একট সংবাদ মাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল, আর তাতেই নাম মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের। ট্রম্পের নাম ঐ তালিকায় দেখে বেজায় রেগে গেছেন তিনি। ৮৬ হাজার কোটি টাকার জরিমানাও চাপিয়েছেন ঐ সংবাদপত্র সংস্থার উপর। শুধু তাই নয়, এপস্টিন সংক্রান্ত কিছু গোপন নথি প্রকাশের জন্যও মানহানির মামলা দায়ের করে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন।
সম্প্রতি ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল-এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, একসময় এপস্টিনের ঘনিষ্ঠ ছিলেন ট্রাম্প। এমনকি, ২০০৩ সালে এপস্টিনের জন্মদিনে নগ্ন মহিলার ছবি এঁকে তিনি শুভেচ্ছা বার্তা পাঠিয়েছিলেন বলেও দাবি করা হয়। টাইপরাইটারে লেখা সেই চিঠিতে লেখা ছিল ‘‘শুভ জন্মদিন, তোমার প্রতিটি দিন হোক গোপন অথচ দুর্দান্ত”। নীচে লেখা ছিল শুধুমাত্র ডোনাল্ড শব্দটি। তবে এই দাবিকে সম্পূর্ণ ভুয়া আখ্যা দিয়ে ট্রাম্প আগেই ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন, ‘‘জীবনে কোনও দিন ছবি আঁকিনি, নগ্ন নারীর ছবি আঁকার তো প্রশ্নই ওঠে না। ওই ভাষা বা শব্দও আমার নয়”। এই বক্তব্যের পরও সংবাদপত্রের প্রতিবেদন প্রকাশ করায় ট্রাম্পের অভিযোগ, তাঁর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার ষড়যন্ত্র করা হয়েছে। এই প্রেক্ষিতে ট্রাম্প ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল-এর মূল সংস্থা ডো জোন্স এবং মিডিয়া সম্রাট রুপার্ট মার্ডকের বিরুদ্ধেও মানহানির মামলা করেছেন।
এদিকে, পুরো ঘটনার মধ্যে আরও জটিলতা যোগ করেছে এপস্টিন ফাইল। এপস্টিনের সঙ্গে যৌন পাচারের অভিযোগে যুক্ত গোপন গ্র্যান্ড জুরি নথি আংশিক প্রকাশের জন্য ইতিমধ্যেই নিউ ইয়র্কের এক বিচারকের কাছে আবেদন জানিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। বৃহস্পতিবারই অ্যাটর্নি জেনারেল প্যাম বন্ডি এই নির্দেশ দেন। ট্রাম্পের দাবি, জনগণের স্বার্থে ২০১৯ সালের এপস্টিনের যৌন পাচার মামলার গ্র্যান্ড জুরি বয়ান এবং তাঁর সহযোগী গিজলেইন ম্যাক্সওয়েলের মামলা প্রকাশ্যে আনা উচিত। সাধারণত মার্কিন আইন অনুযায়ী গ্র্যান্ড জুরি সংক্রান্ত সাক্ষ্যপ্রমাণ গোপন রাখা হয়। তবে আদালত প্রয়োজনে জনস্বার্থে তা প্রকাশ করতে পারে।
প্রসঙ্গত, কিছুদিন আগে মার্কিন ধনকুবের ইলন মাস্কও দাবি করেছিলেন, এপস্টিন ফাইল প্রকাশই হবে তাঁর ঘোষিত নতুন রাজনৈতিক দল ‘আমেরিকা পার্টি’র অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। এরপরেই এই নথি নিয়ে হইচই শুরু হয়। ট্রাম্প প্রশাসনের এই পদক্ষেপ সেই বিতর্ককে নতুন মাত্রা দিল বলেই মনে করছে ওয়াশিংটন পর্যবেক্ষক মহল। আদালত এই মামলা ও এপস্টিন নথি প্রকাশের আবেদনের বিষয়ে কী রায় দেয় এবং তাতে ট্রাম্পের রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত অবস্থান কতটা প্রভাবিত হয়।
