স্পোর্টস রিপোর্টার : টানাটান লড়াইয়ের ম্যাচ আর সেই ম্যাচ জিতে ডুরান্ড সেমিফাইনালে মোহনবাগান। বৃষ্টিভেজা যুবভারতীতে জামশেদপুরকে ট্রাইবেকারে ৯-৮ গোলে হারিয়ে ডুরান্ড কাপের সেমিফাইনালের পথে টিম বাগান। জিতলেও এদিন বাগানের ছন্নছাড়া ফুটবল নিয়ে রয়ে গেলো প্রশ্ন। ম্যাচের শুরুতেই এগিয়ে যায় মোহনবাগান।
২ মিনিটে জামশেদপুর মিতেইয়ের ভুল পাস থেকে বল পেয়ে গোল করে গেলেন সাহাল আব্দুল সামাদ। এরপর ৭ মিনিটে গোলের সুযোগ মোহনবাগানের দারুণ গোলের সুযোগ পেয়েছিল মোহনবাগান। বক্সের বাঁদিক থেকে শুভাশিস বসু ক্রস বাড়ান মনবীর সিংকে। তিনি বল পেলেও বক্সের বাইরে মারেন।১৬ মিনিটে গোলের সুযোগ জামশেদপুরের সানান মহম্মদের থেকে বল পেয়ে আমন সিকে বক্সের ডান দিক থেকে উঠে যান। সামনে ছিল মোহনবাগানের গোলকিপার। আমন শট নিলেও তা আটকে দেন বিশাল কাইথ। ২৫ মিনিটে ফের মিস জামশেদপুরের বক্সের বাইরে থেকে বল ভাসিয়ে দেন লালরিয়াপুইয়া। বলটা সরাসরি যায় ডানদিকে থাকা প্রতীক চৌধুরীর কছে। কিন্তু তিনি বলের তলায় লাথি মেরে পোস্টের অনেক উপর দিয়ে বল পাঠিয়ে দেন। ৩৩ মিনিটে ফের দ্রাজ়িচ এবং মিস অভিষেক সিং টেকচাঁমের সেন্টার পান দ্রাজ়িচ। কিন্তু এ বারও ভালো জায়গায় বল পেয়ে মিস করেন দ্রাজ়িচ। ৩৯ মিনিটে অসাধারণ সেভ জামশেদপুরের গোলকিপারের পেনাল্টি বক্সের ভালো বল পান সাহাল। সামনে দুই ডিফেন্ডার। তিনি সরাসরি গোলে শট নেন। কিন্তু বলটা লাগে জামশেদপুরের প্রণয় হালদারের পায়ে। কিন্তু বলটা গোলে ছিল। সেই সময় ত্রাতা হন জামশেদপুরের গোলকিপার অ্যালবিনো গোমেস। ঝাঁপিয়ে বল বের করে দেন।
প্রথমার্ধের শেষ সময়ে ম্যাচে সমতা ফেরায় জামশেদপুর।রাশিঠির ক্রসে গোল করেন দেবেন্দ্র। প্রথমার্ধ শেষ হয় ১-১ ব্যবধানে।সেকেন্ড হাফের ৬১ মিনিটে লিস্টন কোলাসো গোলে র নিশ্চিত সুযোগ হাতছাড়া করলেন। ম্যাকলারেন বক্সের ডান দিক থেকে গড়ানো শটে ক্রস বাড়ান। সেই সময় পোস্টের সামনে মোহনবাগানের কেউ ছিলেন না এবং জামশেদপুরের গোলকিপার বলটা মিস করেন। সেই সময় বলটা বেরিয়ে যাচ্ছিল। তা ধরতে মোহনবাগানের সাহাল এবং জামশেদপুর গোলকিপার অ্যালবিনো গোমেস যান। কিন্তু গোমেস মিস করেন এবং সাহাল বলের দখল নিয়ে বাড়ান লিস্টনের দিকে। সেই সময়ে লিস্টন পোস্টের সামনে দাঁড়িয়ে এবং তাঁর সামনে মাত্র একজন ডিফেন্ডার। এসব ক্ষেত্রে প্লেয়াররা সরাসরি গোলে শট নেন। কিন্তু লিস্টন কোনও অজ্ঞাত কারণে ব্যাক পাস করলেন এবং বলের দখল হারালেন।
এরপর ৮৮ মিনিটে পেনাল্টি থেকে বঞ্চিত হয় মোহনবাগান।অনিরুদ থাপা জামশেদপুরের হাফে একটি ফ্রি কিক পান। তিনি ফ্রি কক থেকে ভালো একটা বল বাড়ান। বলের কাছে যেতে চান আলবার্তো রদ্রিগেজ়। কিন্তু বিপক্ষের এক প্লেয়ার তাঁর জার্সি টেনে তাঁকে ফেলে দেয়। রেফারির কাছে লাল কার্ডের আবেদন করলেও রেফারি কার্ড দেখাননি।ম্যাচের চূড়ান্ত সময় ১-১ শেষ হলে ম্যাচ গড়ায় ট্রাইবেকারে এখানেও দুই দলই লড়াই চালিয়ে যাচ্ছিল। অবশেষে ম্যাচের ফলাফল যখন ৮-৮ তখন দুর্দান্ত সেভ বিশাল কাইথের জামশেদপুরের মামার শট আটকালেন তিনি।আর বিশালের হাতেই মোহনবাগানের হারের ফারা কাটলো। তবে সেমিফাইনাল আরও কঠিন গত ২ বারের চ্যাম্পিয়ন নর্থ ইস্ট। আর শিলংয়ের মাঠে গিয়ে খেলতে হবে। ফলে ভুল মেরামতি না করলে মাসুল দিতে হবে।