ওঙ্কার ডেস্ক: মার্কিন ভোটারদের জন্য বাধ্যতামূলক ফটো আইডির পক্ষে সরব হলেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিজের দাবির সমর্থনে ভারতের নির্বাচনী ব্যবস্থার উদাহরণ দিয়েছেন তিনি। তাঁর দাবি, ভারতে ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে পরিচয়পত্রের ব্যবহার বাধ্যতামূলক।সম্প্রতি ভারতের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনী ব্যবস্থায় বৈধ ফটো আইডি ছাড়া ভোটগ্রহণ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন বলে জানান তিনি।
নিজের মালিকানাধীন ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ একটি পোস্টে ট্রাম্প জানান, ভারতের ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে প্রায় ৬৪ কোটি ৬০ লক্ষ মানুষ ভোট দিয়েছিলেন। তাঁদের প্রত্যেকের কাছেই বৈধ পরিচয়পত্র ছিল। ট্রাম্প আরও দাবি করেন, ভারতের সাম্প্রতিক নির্বাচনে এক শতাংশেরও কম ভোটার পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিয়েছেন। এই ব্যবস্থার সঙ্গে আমেরিকার নির্বাচনী প্রক্রিয়ার তুলনাও করেন তিনি। এই বক্তব্যের মাধ্যমে নিজের প্রস্তাবিত ‘সেভ আমেরিকা অ্যাক্ট’-এর পক্ষে সমর্থন বাড়ানোর চেষ্টা করেছেন ট্রাম্প। এই আইনের পুরো নাম ‘সেফগার্ড আমেরিকান ভোটার এলিজিবিলিটি অ্যাক্ট’।
প্রস্তাবিত আইনে ভোটার হিসাবে নাম নথিভুক্ত করার সময় নাগরিকত্বের প্রমাণ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। একইসঙ্গে দেশজুড়ে ভোটারদের পরিচয় যাচাইয়ের জন্য বাধ্যতামূলক আইডির প্রস্তাব রয়েছে। ডাকযোগে ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রেও বিধিনিষেধ আনার কথা বলা হয়েছে। অসুস্থতা, প্রতিবন্ধকতা, সামরিক দায়িত্ব অথবা সফরের মতো নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে এই সুবিধা রাখার প্রস্তাব রয়েছে। ট্রাম্পের দাবিকে সমর্থন করেছেন ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গোরও। সমাজ মাধ্যম এক্স-এ তিনি ভারতের নির্বাচনের উদাহরণ তুলে ধরেন। তাঁর দাবি, ভারতের নির্বাচনে বিপুল সংখ্যক ভোটার পরিচয়পত্র ব্যবহার করেছেন।
‘সেভ আমেরিকা অ্যাক্ট’ নিয়ে মার্কিন রাজনীতিতে অবশ্য মতবিরোধ রয়েছে। বিলটি গত ২৯ জানুয়ারি পেশ করা হয়েছিল। তবে ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকানদের মধ্যে এ নিয়ে মতভেদ রয়েছে। চলতি মাসের শুরুতে মার্কিন সেনেট পাঁচ সপ্তাহের জন্য মুলতুবি হয়েছে। ফলে বিলটি পাস করার বিষয়ে এখনও কোনও চূড়ান্ত অগ্রগতি দেখা যায়নি। হোয়াইট হাউসের দাবি, প্রস্তাবিত আইনের মূল উদ্দেশ্য হল শুধু মার্কিন নাগরিকদের ফেডারেল নির্বাচনে ভোট দেওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করা। অ-মার্কিন নাগরিকদের ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার ব্যবস্থার কথাও বলা হয়েছে।