ওঙ্কার ডেস্ক: সোমবার দুর্গাপুজো অনুদান মামলার শুনানিতে বিচারপতি সুজয় ঘোষ স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, যারা আদালতের নির্দেশ মেনেও খরচের হিসেব জমা দেয়নি, তাদের ব্যাপারে রাজ্য সরকার কী পদক্ষেপ নিয়েছে তা আদালতকে জানাতেই হবে।
মামলাকারীর পক্ষের আইনজীবী শামিম আহমেদ এ দিন আদালতে জানান, ২০১৮ সাল থেকে রাজ্য সরকার বিভিন্ন ক্লাবকে দুর্গাপুজোর সময় অনুদান দিয়ে আসছে। প্রতিবছর কয়েকশো ক্লাব এই অনুদান পায়। তিনি দাবি করেন, হাইকোর্টের আগের নির্দেশেই বলা আছে কোন খাতে এই অনুদান ব্যবহার করা যাবে, আর কোন খাতে নয়। তবুও বহু ক্লাব সেই নির্দেশ অমান্য করেছে।
রাজ্যের আইনজীবী আদালতকে জানান, সাধারণত সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মাসে এই ধরনের মামলার গুরুত্ব বাড়ে, কারণ তখন দুর্গাপুজো ঘনিয়ে আসে। এর আগেও একাধিকবার আদালতের হস্তক্ষেপে অনুদান খরচের খাত ও নিয়ম পরিষ্কার করা হয়েছে। তবে এবারের শুনানিতে মূল প্রশ্ন উঠে আসে, অনুদান নেওয়া সত্ত্বেও যারা ইউটিলাইজেশন বিল বা খরচের হিসেব জমা দেয়নি, তাদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
অ্যাডভোকেট জেনারেল কিশোর দত্ত আদালতে জানান, মোট ৫২০টি ক্লাবের মধ্যে ৩৬টি ক্লাব এখনও পর্যন্ত হিসেব দেয়নি। তবে এই ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট হননি বিচারপতি সুজয় ঘোষ। তিনি সরাসরি প্রশ্ন তোলেন, “যারা কোর্টের নির্দেশ মানেনি, তাদের ব্যাপারে রাজ্যের অবস্থান কী?”
আদালতের এই পর্যবেক্ষণের পর রাজ্য সরকারের উপর চাপ বেড়েছে। এখন দেখার বিষয়, অনুদান পাওয়া অথচ হিসেব না দেওয়া ক্লাবগুলির বিরুদ্ধে সরকার কী পদক্ষেপ নেয়। এই মামলার পরবর্তী শুনানি নির্ধারিত হয়েছে আগামী বুধবার।
