অঞ্জন চট্টোপাধ্যায়
দীর্ঘ ১৩ বছরের অপেক্ষার অবসান। দক্ষিণাঞ্চলকে প্রথম ইনিংসের লিডের ভিত্তিতে হারিয়ে ২০১২-১৩ মরশুমের পর ফের দলীপ ট্রফি জিতল পূর্বাঞ্চল। চেন্নাইয়ের চিদাম্বরম স্টেডিয়ামে পাঁচ দিন ধরে চলা ফাইনালে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত দাপট দেখাল পূর্বাঞ্চল। ম্যাচ শেষে স্টাম্প হাতে নিয়ে মাঠে নেমে নাচতে শুরু করলেন অধিনায়ক ঈশান কিষাণ ও ১৫ বছরের বৈভব সূর্যবংশী। ইশান কিষাণের হাতে দলীপ ট্রফি ২০২৬!
অধিনায়ক ইশান কিষাণের হাতে উঠল ২০২৬-এর দলীপ ট্রফি, আর তাঁর নেতৃত্বে স্মরণীয় এক অভিযান শেষ করল ইস্ট জোন।
ব্যাট হাতে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পর নেতৃত্বেও নজর কাড়লেন ইশান।টস জিতে প্রথমে ব্যাট করে পূর্বাঞ্চল তোলে বিশাল ৭০৮ রান। অধিনায়ক ঈশান কিষাণ একাই করেন ২৭০ রান। তাঁকে যোগ্য সঙ্গ দেন কুমার কুশাগ্র (১০১) এবং শিখর মোহন (৮৫)। বিশাল রানের চাপে পড়ে দক্ষিণাঞ্চল প্রথম ইনিংসে গুটিয়ে যায় ৩৩৬ রানে। অধিনায়ক তিলক বর্মা ৯৯ রানের লড়াকু ইনিংস খেললেও পূর্বাঞ্চলের বোলারদের সামনে বড় জুটি গড়তে পারেনি দক্ষিণাঞ্চল।
পূর্বাঞ্চলের হয়ে মুকেশ কুমার তিনটি এবং মহম্মদ শামি ও কুরেশি দু’টি করে উইকেট নেন। ফলে প্রথম ইনিংসে ৩৭২ রানের বিশাল লিড পেয়ে যায় পূর্বাঞ্চল।দ্বিতীয় ইনিংসে ৭ উইকেটে ৩৮৮ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করে পূর্বাঞ্চল। ঈশান করেন ৮০ রান। কুরেশি নিজের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট কেরিয়ারে প্রথম শতরান করে অপরাজিত থাকেন ১১৬ রানে। তাঁর সঙ্গে অনুকূল রায়ের ৬৪ রানের ইনিংস পূর্বাঞ্চলের লিডকে নিয়ে যায় ৭৬০ রানে।
শেষ পর্যন্ত প্রথম ইনিংসের লিডের ভিত্তিতেই পূর্বাঞ্চলকে জয়ী ঘোষণা করা হয়। দুই অধিনায়ক ঈশান কিষাণ ও তিলক বর্মা করমর্দন করার পরই শুরু হয় উৎসব। পুরো ফাইনালজুড়েই পূর্বাঞ্চলের সাফল্যের কেন্দ্রে ছিলেন ঈশান কিষাণ। প্রথম ইনিংসে তাঁর ২৭০ রান দলকে বিশাল স্কোরের ভিত গড়ে দেয়। দ্বিতীয় ইনিংসেও ৯৮ বলে ৮০ রান করেন তিনি। দুই ইনিংস মিলিয়ে ফাইনালে তাঁর সংগ্রহ ৩৫০ রান। পঞ্চম দিনের ক্লান্ত দক্ষিণাঞ্চলের ক্লান্ত বোলিং আক্রমণের বিরুদ্ধে ব্যাট হাতে দাপট দেখান কুরেশি। ১৮৯ বলে ১৩টি চার ও চারটি ছক্কার সাহায্যে অপরাজিত ১১৬ রান করেন তিনি। অনুকূল রায়ের সঙ্গে তাঁর ১৫০ রানের জুটি পূর্বাঞ্চলকে আরও বড় লিড নিতে সাহায্য করে। দক্ষিণাঞ্চলের হয়ে মহম্মদ সিরাজ দীর্ঘ সময় বল করলেও অন্য প্রান্ত থেকে পর্যাপ্ত সমর্থন পাননি। প্রথম ইনিংসে ১৬৩ ও দ্বিতীয় ইনিংসে ৯৯.২ ওভার বল করতে হয়েছে দক্ষিণাঞ্চলের বোলারদের।
পূর্বাঞ্চলের এই ঐতিহাসিক জয়ে আলোচনায় ১৫ বছরের বৈভব সূর্যবংশীও। দলের সহ-অধিনায়ক বৈভব ফাইনালের দুই ইনিংসে করেন ৪৪ ও ৮ রান। প্রথম ইনিংসে অভিমন্যু ঈশ্বরনের সঙ্গে তাঁর ১০০ রানের ওপেনিং জুটি পূর্বাঞ্চলকে দ্রুত ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিতে সাহায্য করে।স্টাম্প হাতে ঈশান ও বৈভবের নাচ, সতীর্থদের উচ্ছ্বাস এবং মাঠ প্রদক্ষিণ।