ওঙ্কার ডেস্ক: বিহারে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকা সংশোধন ঘীরে তোলপাড় রাজনীতি। নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে একজোট হয়েছে দেশের অনেক রাজনীতি দলগুলি। এমনকি বিহারে বিজেপি দলের অন্দরেও এই ইস্যুতে কমিশনের ভূমিকার সমালোচনা করতে ছাড়েনি। ইতিমধ্যেই কমিশনের পদক্ষেপ ঠেকাতে সুপ্রিম কোর্টে মামলা হয়েছে। এই বিশেষ তালিকা সংশোধনের পরেই রাজনৈতিক অন্দরে আলোড়ন তৈরি হয়েছে। প্রাথমিক রিপোর্টে জানা গিয়েছে, বিহারের বর্তমান ভোটার তালিকা থেকে প্রায় ৩৯ লাখ ভোটারের নাম বাদ যেতে পারে। বুথ লেভেল অফিসারবৃন্দ দাবি করেছেন, এই ভোটাররা ‘ভারতীয় নন’। আর এতেই চিন্তার ভাঁজ পড়েছে বিজেপির কপালে।
বিহার বিজেপির একাংশের আশঙ্কা, বাদ পড়তে যাওয়া ৩৯ লাখ ভোটারের মধ্যে বড় অংশের সমর্থন এতদিন ধরে পদ্ম শিবিরের দিকেই ছিল। বিষয়টি সামনে আসতেই বিহার বিজেপির সাংগঠনিক সম্পাদক ভিখু ভাই দালসানিয়া সোমবার দলের ২৬ জন পদাধিকারীর সঙ্গে বৈঠক করেন। যাঁরা ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজে দলের তরফে তদারকির দায়িত্বে আছেন, তাঁরা দলনেতাদের জানিয়েছেন, নাগরিকত্ব যাচাইয়ের ক্ষেত্রে অফিসারদের যে মানদণ্ড যথেষ্ট যুক্তিসঙ্গত নয়। বিজেপি নেতাদের বক্তব্য, গ্রামের বহু পরিবার প্রজন্মের পর প্রজন্ম ভারতে থাকলেও নানা কারণে উপযুক্ত নথি নেই। অথচ প্রতিবেশীরাই সাক্ষ্য দিয়ে প্রমাণ করতে চাইছেন যে তারা ভারতীয় নাগরিক, কিন্তু নির্বাচন তা গ্রহণ করছে না। নাম ফেলে দেওয়া হচ্ছে ব্ল্যাকলিস্টে।
নির্বাচন কমিশনের এই কাজের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে দেশে বিরোধী দলগুলি। তাদের অভিযোগ, কাগজপত্রের অজুহাতে বহু প্রকৃত ভোটারকে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করার চেষ্টা চলছে, যা গণতান্ত্রিক অধিকারের পরিপন্থী। বিরোধীরা স্পষ্ট বলেছে, শুধুমাত্র নথি না থাকায় নাগরিকত্বের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া একেবারেই গ্রহণযোগ্য নয়। বিহারের বিশেষ ভোটার তালিকা সংশোধন ঘিরে এই বিতর্ক এখন জাতীয় রাজনীতিতেও বড় ইস্যু হয়ে উঠেছে। ভোটাধিকার নিয়ে রাজ্য থেকে সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত শুরু হয়েছে আইনি লড়াই।
