ওঙ্কার ডেস্ক: বাংলায় ভোটার তালিকার খসড়া তালিকা প্রকাশের পর ৩০০০-এর বেশি মাইক্রো অবজার্ভার নিয়োগ করেত চলেছে নির্বাচন কমিশন। বাংলায় নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকার সংশোধন প্রক্রিয়ার আওতায় দাবিদাওয়া ও আপত্তির শুনানির সময় রাজ্যে মাইক্রো অবজার্ভার নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কমিশনের সূত্রে জানা গিয়েছে, শুধুমাত্র পশ্চিমবঙ্গেই এই পর্যায়ে এত বড় সংখ্যায় মাইক্রো অবজারভার মোতায়েন করা হচ্ছে, যা নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। প্রসঙ্গত অতীতে প্রথমে অবসর প্রাপ্ত আইএএস অফিসার সুব্রত দত্ত ও পরে আরও কিছু আইএএস অফিসার দের অবজার্ভার হিসাবে নিয়োগ করেছিল কমিশন।
নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী, এই মাইক্রো অবজার্ভাররা হবেন কেন্দ্রীয় সরকারের কর্মরত আধিকারিক। মূলত গ্রুপ ‘বি’ স্তর বা তার ঊর্ধ্বতন পদমর্যাদার আধিকারিকদের এই দায়িত্বে নিয়োগ করা হবে। বিভিন্ন কেন্দ্রীয় দপ্তর, রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা এবং ব্যাংকের আধিকারিকদের মধ্য থেকেই এই নির্বাচন করা হচ্ছে। প্রায় তিন হাজার মাইক্রো অবজারভার নিয়োগের প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে বলে কমিশন সূত্রে খবর।
এই মাইক্রো অবজার্ভারদের মূল দায়িত্ব থাকবে ভোটার তালিকা সংশোধনের শুনানি পর্বে নজরদারি করা। কোন দাবিদাওয়া বা আপত্তি কীভাবে নিষ্পত্তি হচ্ছে, শুনানি প্রক্রিয়ায় নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত নিয়মাবলি মানা হচ্ছে কি না, সেই বিষয়গুলিই খতিয়ে দেখবেন তাঁরা। পাশাপাশি ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তি, বাদ পড়া নাম, ঠিকানা সংশোধন বা অন্যান্য তথ্যগত ত্রুটি সংক্রান্ত নথিপত্র যাচাইয়ের সময় কোনও অনিয়ম হচ্ছে কি না, সেদিকেও নজর রাখবেন এই আধিকারিকরা।
নির্বাচন কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, এই মাইক্রো অবজার্ভারদের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে। রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দপ্তরের তত্ত্বাবধানে এই প্রশিক্ষণ চলবে। কাজ চলাকালীন তাঁদের পর্যবেক্ষণের রিপোর্ট সংশ্লিষ্ট ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার এবং ঊর্ধ্বতন পর্যায়ে পাঠানো হবে। শুনানি প্রক্রিয়ার সময় কোনও গাফিলতি, পক্ষপাত বা নিয়মভঙ্গ চোখে পড়লে তা সরাসরি কমিশনের নজরে আনা হবে।
সূত্রের খবর, চলতি মাসের শেষ দিক থেকেই ভোটার তালিকা সংশোধনের শুনানি পর্ব শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ইতিমধ্যেই বহু ভোটারের কাছে শুনানির নোটিস পাঠানো হয়েছে। এই পুরো প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে। নির্বাচন কমিশনের মতে, মাইক্রো অবজার্ভার নিয়োগের ফলে এই সংশোধন প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ, বিশ্বাসযোগ্য এবং নির্ভুল হবে, যা আগামী দিনের নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।
