নিজস্ব সংবাদদাতা, নয়াদিল্লি: মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ওঠা একতরফা সিদ্ধান্তের অভিযোগ খারিজ করে দিল জাতীয় নির্বাচন কমিশন। সোমবার সুপ্রিম কোর্টে জমা দেওয়া হলফনামায় কমিশন জানিয়েছে, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) নিয়ে তিনটি নির্দেশই তিন কমিশনারের সর্বসম্মতিতে নেওয়া হয়েছিল, কোনও একক সিদ্ধান্ত নয়।
এসআইআর সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত এবং ফর্ম ৬-এ পরিবর্তনের অভিযোগ তুলে শীর্ষ আদালতে একাধিক পিটিশন দায়ের হয়। তারই জবাবে গতকাল হলফনামা দেয় কমিশন। হলফনামায় বলা হয়েছে, ওই অভিযোগগুলি একটি মাত্র সংবাদ প্রতিবেদনের উপর ভিত্তি করে করা হয়েছে। কমিশন স্পষ্ট করেছে, সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রতিটি পর্যায়ে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের মতামত, পরামর্শ এবং ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি বিবেচনা করা হয়। নথি পর্যালোচনার সময় কোনও কমিশনারের মন্তব্য বা প্রশ্নকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে ধরা হয় না।
কমিশনের দাবি, ২০২৫ সালের জুন, ২০২৫-এর অক্টোবর এবং ২০২৬-এর মে মাসে এসআইআর নিয়ে যে তিনটি নির্দেশ জারি হয়েছিল, তা সর্বসম্মতভাবে গৃহীত। ফর্ম ৬-এ কোনও পরিবর্তন আনা হয়নি। এসআইআর প্রক্রিয়ার সময় ফর্ম ৬-এর সঙ্গে যুক্ত অতিরিক্ত ঘোষণাটি ছিল আলাদা বিষয়। তবে অনলাইনে সেটি যেভাবে দেখানো হয়েছিল, তাতে ফর্মে বদল হয়েছে বলে মনে হতে পারে। সেই বিভ্রান্তি দূর করতে গত ২১ অক্টোবর থেকে অনলাইন আবেদনে দুটি অংশ আলাদা করে দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, ‘ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এর একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, এসআইআর সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত মুখ্য নির্বাচন কমিশনার একাই নিয়েছেন, বাকি দুই কমিশনারকে অন্ধকারে রাখা হয়েছে। ফর্ম ৬ বদল নিয়েও তাঁদের আপত্তি শোনা হয়নি। সেই অভিযোগই এদিন হলফনামায় উড়িয়ে দিল কমিশন।
এর মধ্যেই আজ, মঙ্গলবার এসআইআর সংক্রান্ত সাতটি আবেদনের শুনানি হওয়ার কথা সুপ্রিম কোর্টে। কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধী, দিগ্বিজয় সিং, এআইএমআইএম প্রধান আসাদউদ্দিন ওয়েইসি-সহ অনেকেই জ্ঞানেশ কুমারকে সাময়িকভাবে পদ থেকে সরানোর দাবি জানিয়েছেন। গত ৫ অক্টোবর এই মামলায় নোটিস জারি করে শীর্ষ আদালত জানিয়েছিল, শুধু সংবাদপত্রের খবরের ভিত্তিতে কোনও নির্দেশ দেওয়া যায় না, সব পক্ষের বক্তব্য শুনতে হবে। তবে সিদ্ধান্ত বেআইনি হলে তা বাতিল করা হবে বলেও জানিয়েছিল আদালত।