অর্পিতা মুখার্জী, বেহালা: প্রেমিকার সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে ভয়াবহ নিগ্রহের শিকার হলেন এক তরুণ। প্রেমিকাকে চুম্বন করার অভিযোগে তাঁকে, তাঁর বাবা এবং এক বন্ধুকে আগ্নেয়াস্ত্র দেখিয়ে নগ্ন করে প্রায় ৫০ মিটার রাস্তায় হাঁটতে বাধ্য করার অভিযোগ উঠল কিশোরীর পরিবারের বিরুদ্ধে। ঘটনার ভিডিয়ো তোলা হয় বলেও অভিযোগ। জানা গিয়েছে, এই ঘটনাটি বেহালার সরশুনা থানা এলাকার ক্ষুদিরামপল্লির।
পুলিশ সূত্রে খবর, ১৮ বছরের ওই তরুণের সঙ্গে সম্পর্ক ছিল ১৩ বছরের এক কিশোরীর। রবিবার সন্ধ্যায় খালপাড় মাঠের সামনে দেখা করতে গিয়েছিলেন তরুণ, সঙ্গে ছিলেন তাঁর ১৯ বছরের এক বন্ধু। অভিযোগ, কথা বলার সময় তরুণ কিশোরীকে চুম্বন করেন। তা দেখে ফেলেন কিশোরীর মামার এক বন্ধু। খবর যায় কিশোরীর বাবা প্রদীপ সরকার ও মামা রাহুল বর্মনের কাছে। খবর পাওয়া মাত্রই উত্তেজনা ছড়ায় এলাকায়।
অভিযোগ, এরপর দুই তরুণকে ডেকে নিয়ে যাওয়া হয় ক্ষুদিরামপল্লির বাড়িতে। ডাকা হয় তরুণের বাবাকেও। মামা রাহুল ফোন করে আরও ছয় জনকে ডেকে আনেন। বাড়ির ভিতরে দীর্ঘক্ষণ আটকে রেখে হেনস্থা করা হয়। তারপর মাথায় বন্দুক ঠেকিয়ে তিনজনকেই বিবস্ত্র হতে বাধ্য করা হয় এবং বাড়ির সামনের রাস্তায় নগ্ন অবস্থায় হাঁটতে বাধ্য করা হয় বলে অভিযোগ।
এই ঘটনায় তরুণের বাবার অভিযোগের ভিত্তিতে সোমবার সরশুনা থানায় মামলা রুজু হয়েছে। ভারতীয় ন্যায় সংহিতায় খুনের চেষ্টা, বিপজ্জনক অস্ত্র দিয়ে আঘাত, অপহরণ, বেআইনি আটক, সম্মানহানি, ভয় দেখানো এবং অস্ত্র আইনে মামলা হয়েছে। এখনও পর্যন্ত কিশোরীর বাবা প্রদীপ সরকার, মা রিঙ্কু সরকার এবং মামা রাহুল বর্মনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকি ছয় অভিযুক্তের খোঁজ চলছে।
তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, মূল অভিযুক্ত রাহুল একসময় সক্রিয়ভাবে তৃণমূল করতেন এবং ১২৬ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলরের ঘনিষ্ঠ ছিলেন। ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হচ্ছে। দুই তরুণের মেডিক্যাল পরীক্ষা ও বয়ান রেকর্ড করা হয়েছে। তাঁরা জানিয়েছেন, পোশাক খুলতে বাধ্য করার সময় মাথায় বন্দুক ঠেকানো হয়েছিল। যদিও এখনও পর্যন্ত কোনও আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার হয়নি। স্থানীয়দের একাংশই সেদিন তিনজনকে উদ্ধার করে একটি গ্যারাজে আশ্রয় দেন এবং পোশাক ফিরিয়ে দেন। পরে উত্তেজিত জনতা কিশোরীর পরিবারের বাড়িতে ভাঙচুর চালায় বলেও খবর।