অর্পিতা মুখার্জী, গাইঘাটা: বারুইপুরের পর এবার গাইঘাটা। ফের গভীর রাতে ঘটনার পুনর্নির্মাণ করতে গিয়ে পুলিশের গুলিতে মৃত্যু হল ধর্ষণ-খুনে অভিযুক্তের। জানা গিয়েছে, মৃতের নাম প্রহ্লাদ দাস। পুলিশের দাবি, বন্দুক ছিনিয়ে পালানোর চেষ্টা করায় আত্মরক্ষার্থে গুলি চালাতে বাধ্য হয় তারা।
গত শনিবার রাতে গাইঘাটা থানা এলাকায় বাড়ির কাছেই একটি জলসা অনুষ্ঠান দেখতে গিয়েছিল ১৭ বছরের এক কিশোরী। পরিবারের দাবি, রাত সাড়ে ১১টা নাগাদ একটি ফোন পেয়ে সে অনুষ্ঠান থেকে বেরিয়ে যায়। তারপর থেকে আর খোঁজ মেলেনি। সারাত খোঁজাখুঁজির পর রবিবার সকালে প্রতিবেশীর বাড়ির পিছন থেকে বিবস্ত্র, ক্ষতবিক্ষত অবস্থায় তার দেহ উদ্ধার হয়। পরিবারের অভিযোগ, ধর্ষণ করে খুন করা হয়েছে তাকে। এরপর রবিবারই ওই প্রতিবেশীর পরিবারের আত্মীয় প্রহ্লাদকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে খবর, মঙ্গলবার ভোররাতে ঘটনার পুনর্নির্মাণের জন্য প্রহ্লাদকে ঘটনাস্থলে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু পুনর্নির্মাণ শেষে পুলিশের রিভলভার ছিনিয়ে তিন রাউন্ড গুলি চালায় অভিযুক্ত। এক পুলিশকর্মী জখম হন। পাল্টা গুলি চালায় পুলিশ। জখম হন প্রহ্লাদ। পরে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাকে চাঁদপাড়া গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন। যদিও এই ঘটনায় এখনও সরকারিভাবে কোনও বিবৃতি দেয়নি পুলিশ।
অভিযুক্তের মৃত্যুর খবর ছড়াতেই হাসপাতালে পৌঁছায় তার পরিবার। এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে হাসপাতাল চত্বরে মোতায়েন করা হয়েছে বিশাল পুলিশবাহিনী।
এর আগে গত জুলাই মাসে বারুইপুরে নাবালিকাকে গণধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডলের মৃত্যুও হয়েছিল একইভাবে। গভীর রাতে পুনর্নির্মাণে নিয়ে যাওয়ার সময় পুলিশের অস্ত্র কেড়ে পালানোর চেষ্টা, তারপর পাল্টা গুলিতে মৃত্যু — দাবি ছিল পুলিশের। সেই এনকাউন্টার নিয়ে প্রশ্ন তুলে রিপোর্ট তলব করেছিল কলকাতা হাইকোর্ট, সিসিটিভি ফুটেজ সংরক্ষণের নির্দেশও দেওয়া হয়। মামলাটি এখনও বিচারাধীন। তার সাড়ে তিন মাসের মধ্যেই ফের একই ছবি ফিরল গাইঘাটায়।