ওঙ্কার ডেস্ক: সোশ্যাল মিডিয়া যেন এক অদ্ভুত যুদ্ধক্ষেত্র হয়ে উঠছে দিনে দিনে। যেখানে কে কাকে কুরুচিকর মন্তব্যে হারাতে পারে, তারই প্রতিযোগিতা চলতে থাকে প্রতিনিয়ত। বিশেষ করে যদি তিনি কোনও পরিচিত মুখ হন, তাহলে সেই তিরগুলো আরও বেশি করে এসে বিঁধে যায় সেদিকে। কিন্তু কেউ কেউ আছেন, যাঁরা এসবের পরোয়া না করেই নিজের ছন্দে জীবন কাটাতে জানেন। এমনই ঘটনার শিকার রূপঙ্কর বাগচীর স্ত্রী চৈতালি লাহিড়ী।
প্রসঙ্গত, পুজোর সময় বিদেশে গানের অনুষ্ঠান করতে গিয়েছিলেন রূপঙ্কর। সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী চৈতালিও। বিদেশের মাটিতে কাটানো নানা মুহূর্তের ছবি তিনি নিজের সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্টও করেছিলেন। আর তাতেই শুরু হয় একদল নেটিজেনের কটাক্ষ। কেউ লিখলেন, “একটু রুচিশীল পোশাক পরুন দয়া করে।” কেউ আবার বললেন, “ওজনটা পারলে একটু কমিয়ে ফেলুন।”
তবে এইসব মন্তব্যে চুপ করে যাওয়ার মানুষ চৈতালি লাহিড়ী নন। বরাবরই স্পষ্টবক্তা হিসেবে পরিচিত তিনি। তাই এবারও থামলেন না। বিদেশের মাটিতেই নিজের মতো করে দিলেন মোক্ষম জবাব। সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ছবি পোস্ট করে লিখলেন—“আমি জানি আমি মোটা, কালো, মধ্যবয়সি মহিলা। কিন্তু তা নিয়ে আমার বিন্দুমাত্র মানসিক জটিলতা নেই। আমি জানি আমি স্মার্ট, মিশুকে, মোটামুটি শিক্ষিত। আমি বন্ধু পাতালে তার মনটা বোঝার চেষ্টা করি। মিললে তবে চলে, নচেৎ নয়। তাই আমি খুব খুশি। আমার বন্ধু, ভাই, বোন, দাদা, বৌদি, মাসি আমাকে জানে ও চেনে। তাই ওই পার থেকে তুমি বা তোমরা কে কী বললে ভারী বয়েই গেল। আমার যা খুশি তাই পরব, যে ভাবে ইচ্ছে চলব। তোদের কী রে… কবুতর যা যা যা।”
চৈতালি যেন তির্যক নয়, মিষ্টিমুখই কটাক্ষের জবাব দিলেন। জীবনের প্রতি সবসময় সহজ, আত্মবিশ্বাসী মনোভাব রেখেছেন তিনি। সোশ্যাল মিডিয়া চোখ রাখলে দেখা যায় ভর্তি তাঁর রঙিন মুহূর্তের ছবি— কখনও রান্না করা খাবারের ছবি, কখনও বিদেশের রাস্তায় ঘুরে বেড়ানোর হাসিমাখা ফ্রেম। এইসব নিয়েও চর্চার অন্ত নেই। কিন্তু কে কী বলল, তাতে তাঁর কিছু যায় আসে না। রূপঙ্কর বাগচী এখনো বিদেশে অনুষ্ঠানে ব্যস্ত। পাশে রয়েছেন তাঁর সাহসী সঙ্গী, চৈতালি।
