অঞ্জন চট্টোপাধ্যায়
কুমোরটুলির মাটির গন্ধ, শিল্পীর হাতের ছোঁয়া আর একটি জীবনের শেষ প্রশ্ন—এই সবকিছুকে একসঙ্গে বুকে নিয়ে জন্ম নিচ্ছে স্বল্পদৈর্ঘ্যের চলচ্চিত্র “কারুবাসনা”। এই ছবিতে মুখ্য চরিত্রে অভিনয় করেছেন নিমাই ঘোষ, চয়ন দে ও গার্গী রায় চৌধুরী—যাঁদের অভিনয়ে কুঞ্জ বিহারী পাল ও তাঁর কন্যা চারুমতী পালের সঙ্গে তাঁর ছাত্র শিবেনের সম্পর্ক, দ্বন্দ্ব ও আবেগ গভীরভাবে জীবন্ত হয়ে উঠেছে। এই ছবির গল্প, চিত্রনাট্য ও পরিচালনায়- অমিত দাস, প্রযোজনা : ডঃ অজয় চক্রবর্তী ও পুষ্প দে ফিল্মস।
অশীতিপর অভিজ্ঞ মৃৎশিল্পী কুঞ্জ বিহারী পাল কেবল একজন মানুষ নন—তিনি কুমোরটুলির একটি জীবন্ত ইতিহাস। তাঁর হাতের মূর্তি বাংলার গণ্ডি পেরিয়ে পৌঁছেছে নিউ জার্সি, জর্জিয়া পর্যন্ত। কিন্তু এবছর দুর্গাপুজোর আগে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ডাক্তারি নিষেধে মাটির কাজে হাত দিতে না পারা কুঞ্জর জীবনে নেমে আসে গভীর দুশ্চিন্তা। শিল্পী কি তবে কাজ না করতে পারলেই বাতিল হয়ে যায় ? শুধু কাজ থেকে, না কি জীবন থেকেই ?
মা-হারা মেয়ে চারুমতী পাল—যে নিজেও বাবার প্রধান শিষ্যদের একজন। অন্যদিকে শিবেন—আরেক প্রধান শিষ্য, পিঠোপিঠি বেড়ে ওঠা, চারুর সঙ্গে গভীর সম্পর্কের বন্ধনে বাঁধা। কুঞ্জ চান তাঁর এক চালায় দুটো সুতোকে বাঁধতে। কিন্তু সসম্মানে শিবেন সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে। কেন? কোথায় সেই অদৃশ্য দ্বন্দ্ব, যা এই সম্পর্ককে থামিয়ে দিল ? এই দুর্গাপুজোয় কি ভাঙতে চলেছে কুঞ্জ বিহারী পালের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য—কুমোরটুলির বুকে ? “কারুবাসনা” শুধুই একটি গল্প নয়—এ এক শিল্পীর অস্তিত্বের আর্তনাদ, উত্তরাধিকার, ভয়, ভালোবাসা এবং অসম্পূর্ণতার দলিল।
যেকোনো শিল্পকর্মে নিয়োজিত একজন শিক্ষানবিশ শিল্পী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার আকাঙ্ক্ষা পূরণের জন্য গভীর ব্যাকুলতা অনুভব করেন। এমন কি সেই তীব্র ব্যাকুলতা তার জীবন থেকে ছিনিয়ে নেয় পরম যত্নে লালিত মূল্যবান পার্থিব ও অপার্থিব সম্পদ। এই চাওয়া আর হারিয়ে যাওয়ার দ্বন্দ্ব শিল্পী মনকে ক্ষতবিক্ষত করে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে এগিয়ে যাওয়াই চিত্রিত করার চেষ্টা করেছেন পরিচালক।

এই ছবির প্রতিটি মুহূর্তকে আরও বেশি সংবেদনশীল করে তুলতে চেষ্টা করা হয়েছে প্রতিটা ছত্রে। সবচেয়ে বড় কথা, এই ছবিতে কেউ কোনো পারিশ্রমিক নেননি। একসঙ্গে, নিঃস্বার্থভাবে, অক্লান্ত পরিশ্রম করে আমরা সবাই চেয়েছি দর্শকদের হাতে একটি সৎ ও আন্তরিক উপহার তুলে দিতে। কারুবাসনা ছবিটির প্রথমবার প্রিমিয়ার হতে চলেছে আগামী ২৩ জানুয়ারি ষষ্ঠ আন্তর্জাতিক কলকাতা শর্ট ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে। ছবিটি দেখানো হবে রোটারি সদনে ঠিক সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায়।
