ওঙ্কার ডেস্ক: প্রয়াত অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দোপাধ্যায়। রবিবার সন্ধ্যায় শুটিং চলাকালীনই দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয় অভিনেতার। সোমবার সকালে তমলুকের হাসপাতালে অভিনেতার ময়নাতদন্ত শেষ হতে হতে বেলা গড়িয়ে যায়। তারপরে বন্ধুবান্ধব, শুটিং ইউনিটের লোকজন অভিনেতার শবদেহ নিয়ে কলকাতায় ফিরলেন তখন প্রায় বিকেল। বিজয়গড়ে অভিনেতার বাড়ির সামনে সকাল থেকেই প্রতিবেশী থেকে অনুরাগীসহ সহকর্মীরা ভিড় জমিয়েছিলেন শেষবারের মত তাঁদের প্রিয় অভিনেতার প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করার জন্য। দেহ বাড়ির দোরগোড়ায় আসতেই কান্নায় ভেঙে পড়েন অনেকেই। কিছুক্ষণ বাড়িতেই শায়িত ছিলেন প্রয়াত রাহুল। বিকেল গড়ালে সহকর্মী, অনুরাগীদের সহযোগিতায় কেওড়াতলা শ্মশানে নিয়ে যাওয়া হয় রাহুলে শবদেহ। সন্ধে সাড়ে ৬টার মধ্যে শেষকৃত্য সম্পন্ন করা হয়।
প্রসঙ্গত, ২৯ মার্চ, রবিবার সন্ধ্যায় অভিনেতার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ে। দিঘার কাছে তালসারিতে ধারাবাহিক ‘ভোলে বাবা পার করেগা’-র শুটিং করতে গিয়েই জলে ডুবে মারা যান রাহুল। অভিনেতার দুর্ঘটনা ও মৃত্যু ঘিরে নানা ধোঁয়াশাপূর্ণ প্রশ্ন ঘুরপাক খেতে থাকে সকলের মনে। প্রথমটায় কেউই বিশ্বাস করতে চাননি এই ঘটনা। পরবর্তিতে সময় গড়ালে এই কঠিন বাস্তবে মেনে বাধ্য হন অভিনেতার আত্মীয়-পরিজনেরা। এই ঘটনার খবর পেয়েই তড়িঘড়ি অভিনেতার বাড়িতে যান অভিনেত্রী সুদীপ্তা চক্রবর্তী, রূপাঞ্জনা মিত্রেরা। পরদিনও বাড়ির সামনে একই রকম ছবি ধরা পরে। সোমবার বিকেলের আগেই অভিনেতার বাড়ির নীচে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায় ফেডারেশন সভাপতি স্বরূপ বিশ্বাস, মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস, অভিনেতা চন্দন সেন, দিগন্ত বাগচী থেকে বহু অভিনেতা-অভিনেত্রীরা। বেলা আন্দাজ ৩টের সময় রাহুলের মরদেহ আসে তাঁর বাড়ির প্রাঙ্গনে। অভিনেতাকে এক বার চোখের দেখা দেখবেন বলে হাজির হয়েছিলেন তাঁর ছোটবেলার বন্ধু থেকে নাটকের দলের সহকর্মীরা। তারপর সময় গড়ালে অভিনেতার বিজয়গড়ের ফ্ল্যাট ছেড়ে রাহুলকে নিয়ে যাওয়া হয় শ্মশানের পথে। অন্যদিকে তখন ছেলে সহজকে নিয়ে অভিনেত্রী প্রিয়াঙ্কা সরকারও রওনা দেন। বিকেল ৫টা নাগাদ অভিনেতাকে নিয়ে যাওয়া হয় শ্মশানের ভিতরে। শেষ সময় কেওড়াতলায়ও হাজির হএয়ছিলেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়, চূর্ণী গঙ্গোপাধ্যায়, অঙ্কুশ হাজরাসহ গোটা টলিপাড়া। শ্মশানের গেটের বাইরে তখনও দাঁড়িয়ে অভিনেতার স্কুলের বন্ধুরা। সন্ধে সাড়ে ৬টা নাগাদ সম্পন্ন হয় শেষ কাজ। বাবার দাহকাজ সেরে ১৩ বছরের ছেলে সহজ তখন শক্ত করে ধরে মায়ের হাত। এর পরেই ছেলে সহজকে নিয়ে বাড়ির পথে রওনা দেন প্রিয়াঙ্কা।
উল্লেখ্য, ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্ট অনুযায়ী জানা গিয়েছে, জলে ডুবেই মৃত্যু হয় অভিনেতার। তাঁর ফুসফুস ফুলে দ্বিগুণ আঁকার ধারন করেছিল, এছাড়াও ভিতরে অস্বাভাবিক পরিমাণে বালি এবং নোনা জল পাওয়া গিয়েছে। দীর্ঘ ক্ষণ ধরে জলের তলায় ডুবে থাকার ফলে এমন ঘটনা ঘটতে পারে বলেই রিপোর্ট।
এ দিন শেষকৃত্যের পরেও বিজয়গড়ে রাহুল অরুণোদয়ের বাড়ির আশপাশে চোখে পড়েছে জটলা। এখনও পর্যন্ত সর্বত্রই আলোচনায় রাহুল অরুণোদয় বন্দোপাধ্যায়। অনেক প্রশ্ন, উত্তর খোঁজে সকলেই, বিষণ্ণতা ঘিরে গোটা বিনোদনমহল।