ওঙ্কার ডেস্ক: একটি ঘটনা বদলে দিয়েছে সকলের চেনা শুটিংপাড়া। যে ঘটনায় পথে নেমছে গোটা টলিউড পরিবার, অভিনেতা রাহুলের আকস্মিক মৃত্যু যেন এখনও অবিশ্বাস্য। ইতিমধ্যেই আর্টিস্ট ফোরাম এবং অভিনেতার পরিবারের তরফে রিজেন্ট পার্ক ও তালসারি থানায় এফআইআর দায়ের করা হয়েছে স্বচ্ছ তন্দন্তের দাবি জানিয়ে। অন্যদিকে, এখনও পর্যন্ত প্রযোজনা সংস্থার তরফে সদুত্তর না পাওয়ায় মঙ্গলবার থেকে টলিপাড়ায় সমস্ত শ্যুটিং বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে আর্টিস্ট ফোরাম, ফেডারেশন, প্রযোজক, পরিচালক ও টেকনিশিয়ানরা। টেকনিশিয়ানদের ফেডারেশনের সভাপতি স্বরূপ বিশ্বাস, চ্যানেলের প্রতিনিধি এবং প্রযোজকদের উপস্থিতিতে এই সিদ্ধান্তে ইতিমধ্যেই শিলমোহর পড়ে গিয়েছে।
শনিবার একদিকে এফআইআর দায়ের করেছেন আর্টিস্ট ফোরামের সদস্যরা, পাশাপাশি তখন রাহুলের অকালমৃত্যুর বিচার চেয়ে পথে নেমেছিলেন বাংলার কলাকুশলীদের একাংশ। পাশাপাশি তালসারিতে এফআইআর দায়েরের পর প্রিয়াঙ্কা সরকার এবং আর্টিস্ট ফোরামের সঙ্গে বৈঠক হবে বলে জানা গিয়েছিল। সেই মতো রবিবারের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন প্রিয়াঙ্কা। উপস্থিত ছিলেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত’সহ একাধিক তারকারা।
রবিবার বিকেলে টেকনিশিয়ান্স স্টুডিওর সেই বৈঠক থেকেই ঘোষণা করা হয় মঙ্গলবার থেকে সাময়িক কর্মবিরতি পালন করবে টলিপাড়া। শুটিং পুরোপুরি বন্ধ রাখা হবে। মঙ্গলবার সকাল ১০টা থেকে স্টুডিয়ো চত্বরে সকল অভিনেতা-অভিনেত্রী ও অনান্যদের উপস্থিতিতেই কর্মবিরতি পালন করবেন শিল্পী ও টেকনিশিয়ানরা। শিল্পী ও কলাকুশলীদের সুরক্ষা ব্যবস্থা আরও কড়া করার দাবিতেই এই সিদ্ধান্ত বলে জানানো হয়।
প্রসঙ্গত, গত রবিবার, ২৯ মার্চ তালসারিতে শ্যুটিং করতে গিয়েই মর্মান্তিক মৃত্যু হয় অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের। তার পর থেকেই যেন ছন্দ হারিয়েছে টলিপাড়া। একাধিক প্রশ্ন উঠেছে কিন্তু একসপ্তাহ পার হলেও উত্তর অধরা। আর এই সব প্রশ্ন নিয়েই শনিবার কলকাতার রিজেন্ট পার্ক থানায় অভিযোগ দায়েরের পর তালসারি থানায় এফআইআর করেন প্রিয়াঙ্কা সরকার। সঙ্গে ছিলেন আর্টিস্ট ফোরামের সদস্যরাও। উল্লেখ্য, ঠিক কীভাবে মৃত্যু হল রাহুলের, তা জানানোর জন্য প্রযোজনা সংস্থাকে ১ তারিখ একটি চিঠি দিয়েছিল আর্টিস্ট ফোরাম। তার সদুত্তর উত্তর না পাওয়ায় ফের বৈঠকে বসেন ফোরামের সদস্যরা। সেখানেই FIR-এর সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়। উপস্থিত ছিলেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, শাশ্বত চট্টোপাধ্যায়, শান্তিলাল মুখোপাধ্যায়, আবির চট্টোপাধ্যায়, লাবণী সরকারসহ অন্যান্য অভিনেতা-অভিনেত্রীরা। বর্তমানে এই কর্মবিরতির ফলে টলিপাড়ার কি ভবিষ্যৎ হয় সেদিকে তাকিয়ে সকলে। পাশাপাশি তাঁদের ভবিষ্যতে যাতে এমন ঘটনার মুখোমুখি আর না হতে হয় এবং শিল্পীদের নিরাপত্তার দায়িত্ব যাতে নেওয়া হয় সেই দাবিই জানিয়েছে ফোরামের সদস্যরা।