ওঙ্কার ডেস্ক: প্রয়াত হয়েছেন সুরসম্রাজ্ঞী আশা ভোঁসলে। ১২ এপ্রিল রবিবার, মুম্বইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন তিনি। তাঁর প্রয়াণে শোকস্তব্ধ সঙ্গীতমহল থেকে বিনদনজগতও। সোমবার দুপুরে প্রয়াত শিল্পীর শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে তা জানিয়েছেন আনন্দ ভোঁসলে। তাঁর আগে চলছে অন্তিম যাত্রার প্রস্তুতি। একে একে বহু তারকা ও পরিচিতরা শেষবার শিল্পীকে দেখতে যাচ্ছেন বাসভবনে।
অন্যদিকে, আশা ভোঁসলের শেষকৃত্য নির্বিঘ্নে মেটাতে কড়া নিরাপত্তায় মুড়ে ফেলা হয়েছে মুম্বই শহর। ইতিমধ্যেই শহরের বিভিন্ন জায়গায় ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে, মোতায়েন রয়েছে বিশাল পুলিশ বাহিনীও। জানা গিয়েছে, রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সম্পন্ন হবে শিল্পীর শেষকৃত্যের অনুষ্ঠান। আশা ভোঁসলের বাসভবন ‘কাসা গ্র্যান্ড’-এ মরদেহ শায়িত থাকবে। খবর, তারকা থেকে শুরু করে ঘনিষ্ঠরা সকাল ১০.৩০ টা থেকে দুপুর ২টো পর্যন্ত শেষ শ্রদ্ধা জানাতে শিল্পীর বাড়িতে যেতে পারবেন। ইতিমধ্যেই অনেকে আসতেও শুরু করেছেন। এরপর বিকেল ৪টেয় শিবাজি পার্কে সম্পন্ন হবে শেষকৃত্য।
উল্লেখ্য, শনিবার বিকেলে আশা ভোঁসলেকে মুম্বইয়ের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। নাতনি জানিয়েছিলেন, প্রবল ক্লান্তি এবং বুকে সংক্রমণের কারণেই ভর্তি করা হয়েছে দিদিমাকে। কিন্তু আর শেষরক্ষা হয়নি। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, একাধিক শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন তিনি। মাল্টি অরগ্যান ফেলিওরের কারণেই মৃত্যু হয় আশা’জীর।
প্রায় আট দশকের দীর্ঘ সঙ্গীতজীবনে অসংখ্য অমর গান তাঁর। চল্লিশের দশকে মারাঠি ছবির গান দিয়ে শুরু। তারপর হিন্দি, বাংলা-সহ একাধিক ভাষায় তাঁর কণ্ঠ চারিদিকে ছড়িয়ে পড়েছে। একসময় তাঁকে কেবল চটুল গান থেকে গজল, শাস্ত্রীয় সঙ্গীত সব ক্ষেত্রেই নিজেকে প্রমাণ করেছেন তিনি। ব্যক্তিগত জীবনেও বহু উত্থান-পতনের সাক্ষী হয়েছেন। তবু সঙ্গীতই ছিল তাঁর নিজের। তাঁর কথায়, সঙ্গীতই শ্বাসপ্রশ্বাস। ২০০০ সালে ফিল্মফেয়ার লাইফটাইম অ্যাচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ড দেওয়া হয় আশা ভোসলে কে৷ ২০০৮ সালে দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কার পান আশা৷ পদ্মবিভূষণ, সেরা গায়িকার একাধিক পুরস্কার আশার ঝুলিতে৷ এমনকি একসময় তিনি পুরস্কার নেওয়াও বন্ধ করে দিয়েছিলেন যাতে অন্যরা পুরস্কার পান। গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডেও নিজের নাম লিখিয়েছেন আশা। ২০ টির বেশি ভাষায় ১৪ হাজার গান গেয়েছেন। ৯০ বছর বয়সেও কনসার্ট করেছেন আশা৷ হিন্দি, মারাঠি, বাংলা, গুজরাটি, পাঞ্জাবি থেকে শুরু করে ইংরেজি ও রুশ ভাষাতেও গান করেছেন।
মেরা কুছ সামান, দিল চিজ ক্যায়া হ্যায়, কতরা কতরা, পিয়া তু, ফিরে এলাম দূরে গিয়ে, ভেবেছি ভুলে যাব, সেই তালিকা শেষ হওয়ার নয়।
স্বাভাবিকভাবেই আশা ভোঁসলের প্রয়াণে সঙ্গীতজগতে অপূরণীয় শূন্যতা তৈরি হল। এক যুগের অবসান ঘটল। তবুও তাঁর কণ্ঠ, তাঁর গান চিরকাল বেঁচে থাকবে শ্রোতাদের মনে।