ওঙ্কার ডেস্ক: সম্প্রতি আমেরিকার কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টিনের গোপন ফাইল তথ্যের কিছু ভাগ প্রকাশ করেছে সেদেশের ন্যায়বিচার দফতত। আর তার পর থেকেই আলোচনার শীর্ষে রয়েছে বিষয়টি। প্রত্যাশিত ভাবে একাধিক প্রভাবশালী জনপ্রিয় মানুষ দের নাম এপস্টিন ফাইলে উঠে আসায় চরম বির্তকের তৈরি হয়েছে। সেই তালিকায় রয়েছেন খোদ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প থেকে শুরু করে ধনকুবের ইলন মাস্ক। এছাড়াও বিল গেটস্, জিম্মি কিম্মেল, বিল কিল্টন, এমনকি প্রিন্স অ্যান্ড্রু-র নামও উল্লেখ আছে এই ফাইলে।
আদালতের নির্দেশে প্রকাশ্যে আসা এই বিপুল নথিতে হাজার হাজার ই-মেইল, ব্যক্তিগত যোগাযোগ, আমন্ত্রণপত্র, ভ্রমণ সংক্রান্ত তথ্য, ছবি এবং বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগের রেকর্ড সামনে এনেছে আমেরিকার ন্যায়বিচার দফতর। তদন্তকারীদের দাবি, এপস্টি্ন ফাইলের বিস্তৃত যোগাযোগের জাল ছিল অত্যন্ত শক্তিশালী ও বহুমাত্রিক। বহু প্রভাবশালী নেতা, কূটনীতিক, শিল্পপতি এবং সেলিব্রিটিদের সঙ্গে তার সামাজিক বা পেশাগত সম্পর্ক ছিল। সেই সূত্রেই নানা সময়ে তাদের নাম তার ব্যক্তিগত ডায়েরি, অতিথি তালিকা, ফ্লাইট রেকর্ড কিংবা ই-মেইল বিনিময়ে উঠে এসেছে। ফলে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে এত বিস্তৃত প্রভাব বলয় কীভাবে গড়ে তুলেছিলেন তিনি এবং কারা তার ঘনিষ্ঠ মহলে যাতায়াত করতেন।
নথিতে প্রাক্তন ও বর্তমান রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের যোগাযোগের উল্লেখ পাওয়া গেছে। পাশাপাশি ব্রিটেনের রাজপরিবারের একাধিক সদস্যের সংযোগের তথ্য সামনে এসেছে। ব্যবসা ও প্রযুক্তি ক্ষেত্রের শীর্ষ ধনকুবের যেমন বিল গেটস্, ইলন মাস্কের নাম আলোচনায় উঠে এসেছে। বিনোদন জগতের পরিচিত মুখদের উপস্থিতির কথাও নথিতে দেখা যাচ্ছে, যাদের কেউ সামাজিক অনুষ্ঠানে, কেউবা ব্যক্তিগত সাক্ষাতে যুক্ত ছিলেন বলে উল্লেখ রয়েছে।
তবে তদন্ত সংস্থাগুলি স্পষ্ট করে জানিয়েছে, এই তালিকায় নাম থাকা মানেই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি কোনও অপরাধে জড়িত এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছনো ঠিক নয়। অনেক ক্ষেত্রেই যোগাযোগ ছিল সম্পূর্ণ সামাজিক, আনুষ্ঠানিক বা পেশাগত। তবুও এত প্রভাবশালী ব্যক্তিদের নাম একসঙ্গে উঠে আসায় জনমনে কৌতূহল ও বিতর্ক দুটোই বেড়েছে।
