ওঙ্কার ডেস্ক: ভারত কি হাসিনাকে প্রত্যর্পণ করবে? সোমবার বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল সে দেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীকে ফাঁসির সাজা ঘোষণা করার পর এই প্রশ্ন এখন জোরালো হয়ে উঠেছে। মুজিবকন্যার ভাগ্য নির্ধারণে এখন ভারতের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক পর্যবেক্ষকদের মতে, নয়াদিল্লি হাসিনাকে প্রত্যর্পণ করবে এমন সম্ভাবনা খুবই কম। ভারতীয় আইন এবং দ্বিপাক্ষিক চুক্তি উভয়ই ভারতকে বিবেচনা করার ক্ষমতা দিয়েছে, বিশেষ করে রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বা অন্যায্য বলে বিবেচিত হতে পারে এমন ক্ষেত্রে। ভারত-বাংলাদেশ প্রত্যর্পণ চুক্তিতে কী রয়েছে? সীমান্তে সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলার কৌশলগত ব্যবস্থা হিসেবে ২০১৩ সালে, নয়াদিল্লি এবং ঢাকা একটি প্রত্যর্পণ চুক্তি স্বাক্ষর করে। তিন বছর পর, ২০১৬ সালে, চুক্তিটি সংশোধন করা হয়। তবে, চুক্তির আওতায় প্রত্যর্পণের একটি অন্যতম শর্ত হল দ্বৈত অপরাধের নীতি, যার অর্থ অপরাধ দুই দেশেই শাস্তিযোগ্য হতে হবে। জুলাই হত্যাকাণ্ডে হাসিনা দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন, এটি প্রত্যর্পণের ক্ষেত্রে অনুকূল। তবে দিল্লি হাসিনাকে প্রত্যর্পণ করতে অস্বীকারও করতে পারে। কারণ তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগগুলি ভারতের অভ্যন্তরীণ আইনের সঙ্গে খাপ খায় না। এ ছাড়া, চুক্তির ৮ নম্বর অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, অভিযুক্ত ব্যক্তি যদি প্রমাণ করতে সক্ষম হন যে এই পদক্ষেপটি ‘অন্যায় বা নিপীড়নমূলক’, তাহলে প্রত্যর্পণের অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করা যেতে পারে।
উল্লেখ্য, ছাত্র জনতার বিক্ষোভের মুখে পড়ে গত বছর অর্থাৎ ২০২৪ সালে দেশ ছাড়েন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বর্তমানে তিনি ভারতে রয়েছেন। তাঁর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ হাসিনার নির্দেশে দেড় হাজার ছাত্র-সহ মানুষকে হত্যা করা হয়েছিল।
