সঞ্জয় রায়চৌধুরী, কলকাতা: সামনে নির্বাচন তার আগেই SIR ইস্যু নিয়ে জোর তরজা চলছে রাজনৈতিক দলগুলির মধ্যে। তারই মধ্যে বাংলাদেশ থেকে অনুপ্রবেশ করে ভারতবর্ষে ভুয়ো পরিচয় পত্র তৈরি করে থাকছে বাংলাদেশিরা। এমন ঘটনা বারবার সামনে এসেছে। এবার এ বিষয়ে কড়া পদক্ষেপ নিয়েছে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক কার্যালয়। জুন থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের কার্যালয় ভোটার তালিকা থেকে ১০০ জনেরও বেশি বাংলাদেশী নাগরিকের নাম বাদ দিয়েছে। রাজ্যের ১০টি জেলায় এই বাংলাদেশী ভোটারদের প্রাথমিকভাবে বিদেশী আঞ্চলিক নিবন্ধন অফিস শনাক্ত করেছে। ৭৫০ জনেরও বেশি প্রতারক বিদেশী ভোটারের তদন্ত এখনও চলছে। বাংলাদেশী নাগরিকদের মধ্যে ভারতীয় ভোটার কার্ড আবিষ্কারের পাশাপাশি এসআইআর প্রক্রিয়া রাজ্য সিইওর দপ্তরের জন্য একটি গুরুতর উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।কলকাতা, মুম্বাই এবং দিল্লীর বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশনের সময় এই ঘটনাগুলি প্রকাশ্যে আসে। কিছু বাংলাদেশী নাগরিকের কাছে বাংলাদেশী পাসপোর্টের পাশাপাশি ভারতীয় ভোটার কার্ডও পাওয়া গিয়েছে। পরে তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত নাগরিকদের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া ভোটার কার্ডের বিবরণ রাজ্য সিইওর দপ্তরে পাঠিয়ে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পরবর্তীকালে সিইওর কার্যালয় সংশ্লিষ্ট জেলার জেলা নির্বাচনী কর্মকর্তাদের তদন্তের নির্দেশ দেয়।
যে ১০টি জেলা থেকে এই ধরণের ঘটনা ঘটেছে সেগুলি হল উত্তর ২৪ পরগনা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, নদীয়া, হুগলি, পূর্ব বর্ধমান, পূর্ব মেদিনীপুর, মুর্শিদাবাদ, মালদা, উত্তর দিনাজপুর এবং কোচবিহার।জানা যাচ্ছে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মোট ১১২টি জাল বা অস্তিত্বহীন ভোটার কার্ড শনাক্ত করা হয়েছে, যার মধ্যে সবকটিই বাংলাদেশী নাগরিক। এই সমস্ত কার্ড ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। সিইও অফিস
সূত্রে খবর, প্রতি মাসে FRRO-থেকে আনুমানিক ২৫ থেকে ৩০টি নতুন অভিযোগ আসে। অভিযোগ পাওয়ার পর, সিইওর অফিস সংশ্লিষ্ট জেলাগুলিকে তদন্তের জন্য নির্দেশ জারি করে। জেলা পর্যায়ে যাচাই প্রায় সাত দিনের মধ্যেই করা হয় কার্ডটি আসল নাকি জাল তা নির্ধারণ করার জন্য। যদি কোনও কার্ড জাল বা অস্তিত্বহীন বলে প্রমাণিত হয়, তাহলে তা অবিলম্বে বাতিল করে ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়।
সিইওর অফিসের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, “এই ধরনের অভিযোগ পেলে আমরা তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিয়ে থাকি। রাজ্যে যেহেতু এসআইআরের প্রস্তুতি চলছে, তাই এই ধরনের নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে এবং এই প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে” নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর এমনটাই।
