ওঙ্কার ডেস্ক: ফরিদাবাদে ঘটে যাওয়া নৃশংস ঘটনার পর ধীরে ধীরে সামনে আসছে ভয়াবহ সব তথ্য। নির্যাতিত তরুণীর দিদির বয়ানে উঠে এসেছে সেই রাতের আতঙ্কজনক মুহূর্তগুলির বিবরণ। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনার দিন সন্ধ্যা সাড়ে আটটা নাগাদ বাড়িতে মায়ের সঙ্গে কথা কাটাকাটির পর বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান তরুণী। তিনি জানান, এক বন্ধুর বাড়ি যাচ্ছেন এবং অটো ধরার জন্য রাস্তায় অপেক্ষা করছেন। বেরোনোর কিছুক্ষণ আগেই দিদির সঙ্গে ভিডিও কলে কথা হয় তাঁর। সেই সময় তরুণীকে অস্থির ও ভীত দেখাচ্ছিল বলে জানিয়েছেন দিদি।
রাত গভীর হওয়ার পর পরিবারের উদ্বেগ বাড়তে থাকে। এরপর রাত প্রায় তিনটে নাগাদ হঠাৎই তরুণীর ফোন থেকে একটি কল আসে দিদির মোবাইলে। কিন্তু ফোন ধরার পর কোনও স্পষ্ট কথা শোনা যায়নি। শুধু কান্নার শব্দ ও অস্পষ্ট আওয়াজ পাওয়া যাচ্ছিল। আতঙ্কিত হয়ে দিদি ও পরিবারের অন্য সদস্যরা দ্রুত ওই কলের সূত্র ধরে নির্দিষ্ট জায়গায় পৌঁছন। সেখানে রাস্তায় রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায় তরুণীকে। তাঁর মুখে ও শরীরে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন ছিল, প্রায় অচেতন অবস্থায় ছিলেন তিনি। সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, পরে অবস্থার অবনতি হওয়ায় দিল্লির একটি বড় হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়।
পুলিশি তদন্তে জানা গিয়েছে, রাস্তায় অপেক্ষা করার সময় একটি এসইউভি গাড়িতে থাকা দুই যুবক তরুণীকে লিফট দেওয়ার প্রস্তাব দেয়। বিশ্বাস করে তিনি গাড়িতে ওঠেন। অভিযোগ, এরপর প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে ফরিদাবাদ ও গুরুগ্রাম এলাকায় গাড়ি ঘোরানো হয়। চলন্ত গাড়ির মধ্যেই তাঁকে যৌন নির্যাতনের শিকার হতে হয় বলে অভিযোগ। চিৎকার করলে তাঁকে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়। শেষে রাত প্রায় তিনটে নাগাদ রাজা চকের কাছে চলন্ত গাড়ি থেকে তাঁকে রাস্তায় ছুড়ে ফেলে দেওয়া হয়।
ঘটনার পর পুলিশ দ্রুত তদন্ত শুরু করে এবং অভিযুক্ত দুই যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে যুক্ত গাড়িটিও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। তরুণীর শারীরিক অবস্থা এখনও গুরুতর হলেও চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছেন তিনি। এই ঘটনায় এলাকাজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এবং নারীদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
